১৯৯৩ সালের এ দিনে (১৫ জুন) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ভেঙে যায়। দলটির নেতাদের একটি বড় অংশ সাইফুদ্দিন মানিকের নেতৃত্বে অবস্থান নেয়। পরে একটি অংশ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে অংশগ্রহণ করে। অন্য একটি অংশ গঠন করে কমিউনিস্ট কেন্দ্র। কয়েকজন নেতা যোগ দেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে।
মানিক-নাহিদ
নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ১৫ জুন তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির ৭৫ সদস্যের মধ্যে ৫৩ জন সংস্কারপন্থী সিপিবি থেকে পৃথক অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক। ওই সময় ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম ছিলেন সংস্কারপন্থীদের মধ্যে।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কমিউনিস্ট পার্টিকে সময়ের সঙ্গে যুগোপযোগী করে গড়ার ইচ্ছা থেকে আমরা ৫৩ জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পৃথক অবস্থান গ্রহণ করি। পরে সাইফুদ্দিন মানিক, নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অন্যরা গণফোরামের দিকে যান।’
১৯৯১ সালের ৩-৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় পার্টির পঞ্চম কংগ্রেস। এ কংগ্রেসে মানিককে সভাপতি ও নাহিদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ১৯৯৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় সিপিবির বিশেষ জাতীয় সম্মেলন (বিশেষ কংগ্রেস)। এই কংগ্রেসে সহিদুল্লাহ চৌধুরীকে সভাপতি ও মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময় সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকজন নেতা সিপিবি ছেড়ে দেন।
১৯৯৩ সালের ২৯ আগস্ট সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকসহ কয়েকজন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যোগ দেন গণফোরামে। ১৯৯৬ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি এ দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মারা যান।
গণফোরাম
গণফোরাম থেকে তখন ঐক্য-ন্যাপ নিয়ে বেরিয়ে যান পঙ্কজ ভট্টাচার্য। এখন তিনি ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ নামে একটি নাগরিক সংগঠনেও যুক্ত।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলে বিরোধী দলীয়নেতা হিসেবে সামনে আসেন গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন। যদিও নির্বাচনে তিনি প্রার্থিতা না করায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে অসন্তোষ রয়েছে।
গত দুই বছর টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গণফোরামের এখন দুটো ভাগ। একটি ভাগে কামাল হোসেন ও এমপি মোকাব্বির খানসহ আরও কয়েকজন আছেন। অন্য অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা মোস্তফা মহসীন মন্টুসহ কয়েকজন। মন্টুর সঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদও কামাল হোসেনের নেতৃত্বের বাইরে চলে আসেন।
একাদশ নির্বাচনের পর কাউন্সিলে ২০১৯ সালের ৫ মে মন্টুকে বাদ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক করা হয় অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়াকে। ওই বিশেষ কাউন্সিলে অনুপস্থিত ছিলেন মন্টু।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গণফোরামে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা অবস্থায় গণফোরাম ত্যাগ করেন রেজা কিবরিয়া। তিনি এখন জামায়াত ছেড়ে আসা আমার বাংলাদেশ পার্টির অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। গত ৩ জুন প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এবি পার্টির সংবাদ সম্মেলনে মূল পর্যালোচনা করেন।
কমিউনিস্ট কেন্দ্র
সিপিবি ছেড়ে ‘কমিউনিস্ট কেন্দ্র’ গঠন করেন ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, অজয় রায়সহ কয়েকজন নেতা। দলটি এখন মহাজোটের শরিক। দলের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম।
‘সিপিবি ছেড়েছেন ২৮ বছর। আপনার নেতৃত্বে কমিউনিস্ট কেন্দ্র এখন কেমন আছে?’ জানতে চাইলে ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নতুন, যুগোপযোগী ধারায় সমাজতন্ত্রের রাজনীতি করছি। এখনও চেষ্টা করছি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে একটি সাম্যবাদী রাষ্ট্রগঠনে।’
নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে আরও জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের জুনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে বেরিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ, আবদুল মান্নান আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স সোমবার (১৪ জুন) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই সময় কয়েকজন নেতা বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সিপিবি তো কাজ করছে, রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয়।’