‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, আমরা কেউই নিরাপদ নই। এটা আমাদের জন্য জেগে উঠার ঘণ্টাধ্বনি। দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দোষারোপের সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।’

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সুজনে’র উদ্যোগে আয়োজিত রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বদিউল আলম এসব কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’র প্রতিবাদ, সহিংসতা বন্ধ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র, এবং রিসার্চ অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট অরগানাইজেশন এই মানববন্ধনে যোগ দেয়।

অধ্যাপক মজুমদার বলেন, ‘চট্টগ্রামের মিতু হত্যার পর আমরা দেখলাম ‑ পুলিশ হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে, অথচ পরে দেখা গেল সর্ষের মধ্যেই ভূত। এরমধ্যে কত মানুষের জীবন-জীবিকা নষ্ট করে দেওয়া হলো।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি ‑ আমাদের তরুণরা অনেক ক্ষেত্রে সামনের কাতারে ছিল, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক একটি বিষয়। তরুণদের জন্য আমাদের এখনই একটি জাতীয় কর্মসূচি নিতে হবে।’

কর্মসূচিতে মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশ ঠিকমত কাজ করছে না। এখন নাগরিকদের বিভিন্ন সক্রিয় কর্মসূচি নিতে হবে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনকে একজোট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ করতে হবে।’

দ্য মান্থলি ইন্ডিপেন্ডেন্টসে’র সম্পাদক অধ্যাপক চন্দন সরকার বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও নির্যাতন করা হচ্ছে। সব জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এখনই এর বিচার হওয়া দরকার।’

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘২০০১ সাল থেকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে, ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় কিন্তু সেই কমিটির কোনও প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। আমার এখানে দাঁড়িয়েছি যেন একটা সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারি যাতে আমাদের আর এভাবে রাস্তায় নামতে না হয়।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন‑ বিকশিত নারী নেটওয়ার্কে’র সভাপতি রাশেদা আক্তার শেলী, গণস্বাক্ষরতা অভিযানে’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন প্রমুখ।