সংলাপ গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা করবে: ইনু

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপ একটি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সহযোগিতা করবে বলে মনে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তার দল জাসদ মত বা পেশা বিবেচনা না করে সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ শেষে হাসানুল হক ইনু সংলাপে দেওয়া দলের প্রস্তাবনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বুধবার বিকাল চারটা থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় তারা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ইসি গঠনে আইন প্রণয়নসহ তিন দফা প্রস্তাবনা দেয়।

সংলাপে আলোচনার বিষয়ে হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের সম্পূর্ণ এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। তারপরেও উনি জাসদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার যে সূত্রপাত করেছেন, তার জন্য তাকে আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। এই পদ্ধতিটা নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য অংশগ্রহণমূলক হবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ নির্বাচন কমিশন উপহার দিতে রাষ্ট্রপতিকে সাহায্য করবে।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসি গঠনে আইনি কাঠামো না থাকার কারণে একটি অনুসন্ধান কমিটির মধ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করার উদ্যোগটি তুলনামূলক ভালো।’

ভবিষ্যতের জন্য আইন করার উদ্যোগ নিতে তারা রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছেন উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী ইনু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রতি ৫ বছর পর পর বিব্রতকর অবস্থা হয়। তার থেকে স্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে রাষ্ট্রপতি যেন ভূমিকা গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করার জন্য উনি যেন সরকারকে উপযুক্ত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।’

আইন তো রাষ্ট্রপতি না সংসদ করবে, তাহলে তার কাছে কেন এই প্রস্তাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন সংসদই করবে। সরকারই করবে। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের রক্ষক। সংবিধানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে উনি ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য সরকারকে পরামর্শ দিতে অনুরোধ করেছি। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নে যেন সরকার উদ্যোগ নেয়। এজন্য সব মহলকে বিব্রত হওয়া থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে উদ্যোগ নেবেন।’

সার্চ কমিটি সাংবিধানিক সংস্থা থেকে হওয়া বাঞ্ছনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আপিল বিভাগের বিচারপতি, অডিটর অ্যান্ড কম্প্রোটরাল জেনারেল এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রধানসহ সার্চ কমিটি গঠন করতে বলেছি। এজন্য আমরা কোনও নাম প্রস্তাব সমীচীন মনে করিনি। একজন নারী এবং একজন অধ্যাপক পর্যায়ের দুজন সার্চ কমিটিতে থাকার কথা। সেক্ষেত্রেও আমরা নাম প্রস্তাব না করিনি। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতি এই দুজন মনোনয়ন দেবেন। নাম প্রস্তাব করে আমরা এক্ষেত্রে ভারাক্রান্ত করতে চাই না।’

সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুটি নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। একই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে জাসদ সভাপতি বলেন, ‘গত কয়েকটি নির্বাচন কমিশন অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে হয়েছে। কখনও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কখনও বিতর্ক দেখা দেয়নি। আমরা সংলাপে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যতদূর সম্ভব একটি দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করতে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগকে সহযোগিতা করা বাঞ্ছনীয় মনে করেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বলেছেন, উনি অবিলম্বে সার্চ কমিটি গঠন করবেন। সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে যদি কোনও নাম চায় তাহলে সেখানে আপনারা (জাসদ) সহেযোগিতা করবেন। সার্চ কমিটি দুজন করে নাম দেবে, তার থেকে উনি (রাষ্ট্রপতি) চূড়ান্ত করবেন। আমরা অনুরোধ করেছি, আপনি যে দক্ষতার মানুষই দেন না কেন, তিনি যেন ম্যান অব দ্য ইন্টিগ্রেটি হন। কোন পেশা থেকে এলেন বা কোন মতের লোক, সেটা বড় কথা নয়। যদি সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য মানুষ হন। নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচন উপহার দেবেন।’

সংলাপে জাসদের প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আক্তার, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ ও রেজাউল করিম তানসেন।

বঙ্গভবনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংলাপে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতীয় পার্টি ও জাসদ ছাড়াও আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে সংলাপের শিডিউল হয়েছে। এদের মধ্যে ২৬ ডিসেম্বর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, ২৭ ডিসেম্বর তরিকত ফেডারেশন ও খেলাফত মজলিস, ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি। অন্যান্য দলের সঙ্গে শিডিউল এখনও চূড়ান্ত হয়নি।