ব্যর্থতা ঢাকতে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে: গণফোরামের একাংশ

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গণফোরামের অপর অংশের ওপর দোষ চাপাচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন গণফোরামের একাংশের নেতারা।

শনিবার (১২ মার্চ) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের নেতারা এ অভিযোগ তোলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গণফোরামের একাংশের সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, আমরা আগেই বলেছি এই সম্মেলন (প্রেস ক্লাবে রবিবার অনুষ্ঠিত ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের কাউন্সিল) সম্পূর্ণ অবৈধ ও গণতন্ত্রবিরোধী। নিজেদের আন্তঃকোন্দল এবং ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে তথাকথিত সম্মেলন করার ব্যর্থতা ঘোচাতে অত্যন্ত সুকৌশলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গণফোরাম ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা জেলা, যুব ফোরাম, মহিলা ফোরাম ও ছাত্র ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের জড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। আমাদের সিনিয়র নেতারা তাদের পাতা ফাঁদ থেকে তরুণ নেতাদের বের করে আনতে সক্ষম হন। আজ তথাকথিত সম্মেলনে কমিটি দিতে না পারাই প্রমাণ করে তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গঠনতন্ত্রের ১০ ও ১১ ধারার বিধান মতে ড. কামাল হোসেনের সম্মতিতে ও লিখিত শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে গণফোরামের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ওই জাতীয় কাউন্সিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি ও আমাকে (সুব্রত চৌধুরী) সাধারণ সম্পাদক করে ১৫৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে দেশব্যাপী সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় গণফোরাম ও ড. কামাল হোসেনের নাম ব্যবহার করে কিছু স্বার্থান্বেষী ও বিভেদকামী ব্যক্তি গঠনতন্ত্রিকভাবে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ৩ মাসের মাথায় আজ (১২ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অবৈধ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাউন্সিল আহবান করে।’

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, আজ সকালে গণফোরাম ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা জেলা, মহিলা ফোরাম, যুব ফোরাম ও ছাত্র ফোরাম যৌথভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ও ভোজ্যতেল, গ্যাস ও পানির অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। সে মানববন্ধন চলাকালে তথাকথিত কাউন্সিলের উদ্যোক্তারা সমবেত নেতা-কর্মীর উপর হামলা ও অশালীন আচরণ করে। কথিত ঘটনায় গণফোরামের কোন নেতা-কর্মী জড়িত নয়। তথাকথিত কাউন্সিলে সমবেত কর্মীরাই তাদের নিজেদের অনৈক্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

এসময় সুব্রত চৌধুরী গণফোরামের পক্ষ থেকে প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে গণফোরামকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী সকল নেতাকর্মীকে গণফোরামের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়ায় এবং জনগণের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।

এসময় গণফোরাম (একাংশের) নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, মহসীন রশিদ, মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনসার খান, খান সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রওশন ইয়াজদানী (ঢাকা জেলা), তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে সকালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের কাউন্সিলে আসা নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠি হাতে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ভেঙে ফেলা হয় কাউন্সিলের জন্য আনা চেয়ার-টেবিল। ওই ঘটনায় ২০ জনকে আহত করা হয়েছেন বলে অভিযোগ ‍তুলেছিলেন গণফোরামের কামাল হোসেন অংশের নেতা মোকাব্বির খান।