জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশেই ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি করার মতো সংবিধান আছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা সংবিধানে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারিনি।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জেএসডি আয়োজিত ‘আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ” বাস্তবতা ও করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সভার শুরুতে আলোচিত বিষয়ের ওপর প্রস্তাবনা পাঠ করেন তিনি।
আ স ম রব বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহির কোনও জায়গা রাখা হয়নি। ন্যায়পাল নিয়োগের কথা থাকলেও তা কখনও বাস্তবতার মুখ দেখেনি। এ কারণে সংবিধান সংশোধন না করে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করা যাবে না এবং দেশে শান্তিও আসবে না।’
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন ও আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ পরিস্থিতি উত্তরণের প্রস্তাবনায় আ স ম আবদুর রব পাঁচটি সুপারিশ করেন। এগুলো হলো— সংবিধান সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, রাষ্ট্র মেরামত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকার সমস্যার সমাধান এবং জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ৩১ মার্চ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বাড়ায় ট্রাকের পেছনে মানুষের ছোটাছুটি দুর্ভিক্ষের ইঙ্গিত দেয়। সুখকে অনেক দেশ উন্নতির মাপকাঠি মনে করে। কিন্তু আমাদের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূত চেপে বসেছে। এর সমাধান হচ্ছে এ ভূতকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। অতএব উন্নত জীবন এবং সুখের জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে।’
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখন সব ক্ষমতা এক জায়গায় এসে জমেছে। এমনকি রাষ্ট্রপিতাকে পর্যন্ত দলীয়করণ করা হয়েছে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ।