‘গত ১০ বছরে দেশে সাম্প্রদায়িকতা আরও বেড়েছে’

বিগত ১০ বছরে দেশে সাম্প্রদায়িকতা আরও বেড়েছে। তাই এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশে রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু করা জরুরি বলে মনে করে প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ।

মঙ্গলবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে শিবিরের হাতে নিহত জামিল আক্তার রতনের ৩৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

আলোচনা সভায় সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবু সাঈদ খান বলেন, বর্তমানে ১৪ দলের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চর্চা চলছে। কিন্তু সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটি এখন প্রশ্ন। বরং বাম সংগঠনগুলো কিছু সুবিধা নিয়ে সরকারের যে দুর্নাম রয়েছে তার ভাগীদার হচ্ছে। রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আবু সাঈদ খান।

রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) সাধারণ সম্পাদক জান্নাত ফেরদৌস লাকী বলেন, বিগত ১০ বছরে দেশে সাম্প্রদায়িকতা আরও বেড়েছে। নারীর প্রতিও সহিংসতা বেড়েছে। সামান্য টিপও পড়লে অনেকের সহ্য হচ্ছে না।

বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড নুর আহমেদ বকুল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ব্যবসায়ীদের কালো টাকা আর জঙ্গিবাদের টাকা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।  সাম্প্রদায়িকতা ছড়াতে এ টাকার ব্যবহার বেড়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, ইসলামি ঐক্যজোটের সভাপতি মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শহীদ ডা. জামিল আকতার রতন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৮ সালের ৩১ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে একাডেমিক কাউন্সিলের ৩৪ জন শিক্ষকের সামনেই ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। সেই থেকে এ দিনটিকে ছাত্র মৈত্রীসহ অপরাপর অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলো ‘মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।