‘দুই নেত্রীর মতবিনিময় থাকলে উত্তম রাজনৈতিক পরিবেশ হতো’

মতাদর্শিক বিরোধ ভুলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় সভায় গুরুত্বারোপ করেছে নাগরিক ঐক্য ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। সভায় বক্তরা বলেন, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীর মধ্যে যদি সৌজন্য মতবিনিময় চালু থাকতো তাহলে আমরা বাংলাদেশে আরও উত্তম রাজনৈতিক পরিবেশ পেতাম।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে দল দুইটির শীর্ষনেতারা এক বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হন। এর আগে, খেলাফত আন্দোলন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মতবিনিময় করে এবি পার্টি।

এবি পার্টির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলের আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী। এবি পার্টির পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলে নাগরিক ঐক্য নেতৃবৃন্দ তাদেরকে আমন্ত্রণ জানান। এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছালে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর চৌধুরী দীপু তাদের স্বাগত জানান।

বৈঠকের শুরুতে মাহমুদুর রহমান মান্না শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং এবি পার্টি নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক মতবিনিময় ও সৌজন্য বৈঠককে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে যদি এ ধরনের সৌজন্য মতবিনিময় চালু থাকতো তাহলে আমরা বাংলাদেশে আরও উত্তম রাজনৈতিক পরিবেশ পেতাম।’

তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমগুলোর সংবাদে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ সত্বেও যে খবর আমরা প্রতিদিন পাচ্ছি তাতে স্টেটমেন্ট অব ফ্যাক্ট হলো— মানুষ খুব কষ্টে আছে। সাম্প্রতিক আইএমএফ-এর ব্যর্থ ভিজিটে সরকারের রিজার্ভ ক্যালকুলেশন যে ভুল তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে অথচ তবুও তারা গলাবাজি করেই চলছে। তিনি বলেন, মতাদর্শিক বিরোধ ভুলে সবাইকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য রাজপথে নামতে হবে।’

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এবি পার্টি গঠনের প্রেক্ষাপট ও নীতিমালা তুলে ধরে বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের আন্দোলন গতিধারা বিশ্লেষণ করে মতবিনিময়ে অংশ নেন  নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সার, এবি পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার, নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর চৌধুরী দীপু, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সম্পাদক ডা. জাহেদ উর  রহমান, এবি যুব পার্টির সমন্বয়ক এবিএম খালিদ হাসান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসেইন, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাকিব আনোয়ার প্রমুখ।

এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী নাগরিক ঐক্য নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমাদের মতের পার্থক্য থাকতে পারে কিন্তু কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকারে আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবশ্যই অবাধ নিরপেক্ষ হতে হবে, তবেই এবি পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। তিনি সকল ধরনের হঠকারিতার ব্যাপারে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সতর্ক থাকার আহবান জানান। 

উল্লেখ্য, “জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা” র অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে এবি পার্টি ধারাবাহিক মতবিনিময় করছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল খেলাফত আন্দোলন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে তারা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে।