আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোথাও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভোট, আবার কোথাও ব্যালট; এ ধরনের ‘কোনও বৈষম্য’ চায় না জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু)। দলটি ৩০০ আসনের সবগুলোতেই ইভিএমে কিংবা সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতি আসনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট করার জন্য সুপারিশ করেছে। সেই সঙ্গে বিতর্ক এড়াতে নির্বাচন কমিশনকে মিডিয়ার সামনে ‘কথা কম বলারও’ পরামর্শ দিয়েছে দলটি।
সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে বসে এমন সুপারিশ করে দলটি। সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রতিনিধিরা। সংলাপে জেপি'র সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ বাকি কমিশনার ও সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩৯টি দলকেই সংলাপে আসার সময় জন্য দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে বিএনপিসহ ৯টি দল সংলাপে অংশ নেয়নি। ইসির আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছিল ৩০টি দল। এর মধ্যে দু’টি দল (জেপি ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি) আসতে না পারার কারণ দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে সংলাপের জন্য সময় চেয়েছিল। পরে দল দু'টিকে সোমবার সংলাপে বসার সময় দেয় সাংবিধানিক এ সংস্থা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট অবাধ নিরপেক্ষ ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক হয়; সে বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে জেপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ইসি একা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে পারে না। দুই-একটি দল ভোটে অংশ না নিলেও নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়।’
নির্বাচন কমিশনকে কেবল রাজনৈতিক দলের নয় জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে বলে জানান তিনি। শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেন নিজেদের কোনও ধরনের বিতর্কের মধ্যে না ফেলে। নির্বাচনি সীমানা যারা এমপি তারা সুদীর্ঘ কাল ধরে সে তারা তাদের সংসদীয় এলাকা তৈরি করেছে। এখন বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয় তাহলে তাদের প্রতি অবিচার করা হয়ে যায়। এ কথাও বলেছি শহরে জনসংখ্যা বেশি বলে গ্রাম অঞ্চলে আসনের সংখ্যা যেন কমানো না হয়।’
ইভিএমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার করতে হলে ৩০০ আসনেই করতে হবে। দেড়শ আসনে ইভিএম করবেন, বাকি আসনে করবেন না; তাতে দুটি এলাকাতে একটা বৈষম্যমূলক আচরণ হয়ে গেল। আর আংশিকভাবে করতে চাইলে প্রতিটা এলাকার ১০ শতাংশ বা ১৫ শতাংশ ইভিএমে ভোট নেওয়া যেতে পারে। আর এটা করা হলে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সাপোর্ট যেন থাকে; যাতে করে মানুষের কোনও আস্থার সংকট তৈরি না হয়।’
সংলাপে জেপি বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে বলা হয়, নির্বাচন বর্জন, হরতাল, সংঘাত বা অনির্বাচিত ব্যক্তির দেশ পরিচালনায় জাতীয় পার্টি-জেপি বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্রকে রক্ষা বা পাহারা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এক সঙ্গে ৩০০ আসনের নির্বাচন ইভিএম এ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবে ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ করা যেতে পারে উল্লেখ করে সুপারিশে বলা হয়, ‘না হলে ৩০০ আসনেরই কিছু কিছু ভোটকেন্দ্রে ইভিএম এ নির্বাচন করা যেতে পারে।‘ জাতীয় সংসদের সীমানা বর্তমানে যেভাবে আছে তা বহাল রাখারও সুপারিশ করা হয়।
বিতর্ক এড়ানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে মিডিয়ার সামনে কম কথা বলারও পরামর্শ দেওয়া হয় দলের পক্ষ থেকে।
সুপারিশে আরও বলা হয়, ‘কোনও দলকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা করা নির্বাচনে কমিশনের না নেওয়া; নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান হতে হবে; সকল দল ও প্রার্থীর প্রতি নির্বাচন কমিশনের সমান ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে; যুদ্ধাপরাধী বা মানবতা বিরোধী অপরাধী বা যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি যাতে ভোটকেন্দ্রে ও নির্বাচনে দায়িত্ব না পায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনের কমিশনের অধীনে আনা।’