গণতন্ত্রের সংগ্রামে ভারতের সহযোগিতার আশা বিএনপির

বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ভারতের সহযোগিতা আশা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, অবশ্যই আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আমরা মনে করি, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। ভারত ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে যে সহযোগিতা করেছিল, সেই ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও লড়াইয়ে সহযোগিতা করবে।’

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মতিঝিল-পল্টন-শাহজাহানপুর থানার যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভারত প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশগুলো থেকে আমরা ওটাই আশা করি। একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের ভালোবাসা না নিয়ে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন না নিয়ে এখানে কেউ কখনো কিছু করতে পারবে না। তাই আজ যে ভয়াবহ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে...তাদের সরাতে হলে আমাদের ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। সেই ঐক্যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ওদের সরিয়ে এখানে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

নয়া পল্টনে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং পুলিশের গুলিতে ভোলায় নুরে আলম, আব্দুর রহিম ও নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধানকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে ১৬টি স্পটে সমাবেশে কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সমাবেশ করে দলটি।

শনিবার নয়া পল্টনে সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের আয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে এক ঘণ্টা মোমবাতি জ্বালিয়ে মৌন অবস্থান কর্মসূচি হবে। সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন আমাদের থেমে নেই। গত মাস থেকে যে আন্দোলন শুরু করেছি, সেই আন্দোলন চলছে। আমাদের এই আন্দোলন চলতেই থাকবে। ঢাকা মহানগরীর ১৬ স্পটে বা জোনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ আমরা করবো, যা শুরু হয়েছে আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে।’

২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন জোনে এই সমাবেশের কর্মসূচি হবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এরপর আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেশজুড়ে আমরা দেবো। আসুন, আমরা এই কর্মসূচিতে শরিক হই এবং একযোগে আওয়াজ তুলি, ‘ফয়সালা হবে কোন পথে, রাজপথে রাজপথে’, টেক ব্যাক, টেক ব্যাক বাংলাদেশ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই।’

BNP 1

যেসব জায়গায় সমাবেশ
১১ সেপ্টেম্বর উত্তরা পূর্ব জোন, ১২ সেপ্টেম্বর সেগুনবাগিচায়, ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম জোন, ১৫ সেপ্টেম্বর পল্লবী জোন, ১৬ সেপ্টেম্বর সূত্রাপুর, ১৮ সেপ্টেম্বর শ্যামপুর-কদমতলী জোন, ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান জোন, ২০ সেপ্টেম্বর বাসাবো বালুর মাঠ, ২১ সেপ্টেম্বর মীরপুর জোন, ২২ সেপ্টেম্বর যাত্রবাড়ি-ডেমরা, ২৩ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর জোন, ২৪ সেপ্টেম্বর লালবাগ-চকবাজার-কামরাঙ্গীরচর জোন, ২৫ সেপ্টেম্বর বাড্ডা জোন, ২৬ সেপ্টেম্বর কলাবাগান এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও জোনে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ভাবলাম, প্রধানমন্ত্রী এবার ভারতে গেছেন। আমাদের তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির সমাধান হবে, অভিন্ন নদীর পানির হিসসা আমরা পাবো, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে। আমাদের যে বাণিজ্যে ব্যবধান আছে, সেই ব্যবধানগুলো কমে আসবে। আমাদের আরও সুযোগ-সুবিধা তারা (প্রধানমন্ত্রী) নিয়ে আসতে পারবেন এবং তারাও সেই আশা করে গিয়েছিলেন যে ভারত সেইগুলো দিয়ে দেবে।’

বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপরে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনাকে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করে সরকারের এহেন কর্মকাণ্ড এবং দেশের আর্থিক খাতে ক্ষমতাসীনদের ‘খাস লোকদের’ দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশীদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে সিকদার কাদিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসসহ শাহবাগ, পল্টন, মতিঝিল থানা মহাগরের নেতারা বক্তব্য দেন।