শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন না হলে কারও জন্যই মঙ্গল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়রাম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা আমরা ভালো জানি। আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করতে হবে। তাই আলোচনা ও সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে শান্তিপূর্ণ নিয়মে সরকার পরিবর্তন করা যায়। এভাবে না হলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা কোনোভাবেই কারও জন্য মঙ্গলজনক নয়। বরং তা সাধারণ মানুষের জন্য আরও কষ্টের ও অশান্তির বিষয় হবে।’
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সমমনা রাজনৈতিক দলসমূহ আয়োজিত ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মসমালোচনার প্রয়োজন। ১৯৯৪ সালে জামায়াত যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন না করতো তাহলে আওয়ামী লীগ এই আন্দোলন করতো কিনা জানি না। তারা (জামায়াত) হয়তো সুদূরপ্রসারী চিন্তা নিয়ে এটি করেছে। কিন্তু অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করায় দলগুলো তাদের দাবির সঙ্গে একমত ছিল না। যার ফলে সেই (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) ব্যবস্থাকে সংবিধান থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। একলা চলো নীতি কখনও সফলতা আনে না।’
৯৬-এর মতো আন্দোলন করতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসবে মন্তব্য করে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমান সরকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। ১৯৯৬-এর আন্দোলনে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে বাধ্য হয়েছিল। সেই সময়ের মতো আন্দোলন করতে পারলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।’
আলোচনা সভায় দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে ন্যায়নীতি ও নৈতিকতার অভাব। এগুলো প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশের পরিবর্তন আসবে না। এ জন্য সবাইকে একাত্ম হতে হবে। একাত্মতার বিকল্প নেই।’
সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ক আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহের প্রমুখ।