জোট করতে আলোচনা করছে সুপ্রিম পার্টি

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জোট করার বিষয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। দলটির চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভাণ্ডারী জানিয়েছেন, তার দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যেতেও রাজি। দেশের কল্যাণ ও জাতির স্বার্থে যেকোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম পার্টি।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী এসব কথা জানান। এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন, দলের কার্যক্রম, দলে পরিবারতন্ত্র, আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

সুপ্রিম পার্টির নিবন্ধনের প্রক্রিয়া কত দূর বা কোন পর্যায়ে আছে— এমন প্রশ্নে সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, ‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) পক্ষ থেকে সকল কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন কখন নিবন্ধন সনদ প্রদান করবেন তাদের ওপর নির্ভর করে। তবে নিবন্ধনের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক দলকে যেসব শর্ত প্রদান করা হয়েছে, তার মধ্যে অনেক বিষয় আছে সাংঘর্ষিক। নির্বাচন কমিশনের যেসব শর্ত তা পূরণ করা নতুন একটি রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তার পরেও আমাদের নেতাকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা নির্বাচন কমিশনের সকল শর্তই পুঙ্খানু পুঙ্খভাবে পূরণ করেছি।’

সুপ্রিম পার্টির কতগুলো জেলা কমিটি আছে, কার্যক্রম আছে? জবাবে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির বর্তমানে ৪০টি জেলায় কমিটি ও কার্যক্রম চললেও আমরা নির্বাচন কমিশনে ২৫ জেলা কমিটি জমা দিয়েছি। আমরা আশা করছি আগামী মার্চের মধ্যেই ৬৪টি জেলায় আমাদের কার্যক্রম প্রসারিত করবো ইনশাআল্লাহ।’

আপনার দলে আপনার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কে কে আছেন— প্রসঙ্গে সাইফুদ্দীন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিতে সমাজে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকই আছে। তার মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল আজিজ সরকার, মো. আলমগীর খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক আখন্দ, অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম, মুফতী মাওলানা মহিউদ্দিন লতিফী, সৈয়দ ওবায়দুল মোস্তফা, আবুল কালাম আজাদ, আজাদ দোভাষসহ অনেকেই রয়েছেন যাদের জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব ও ভূমিকা রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

ইসলামি দলগুলো পরিবার কেন্দ্রীক, আপনার দলে আপনার পরিবারের অংশগ্রহণ কেমন— এমন প্রশ্নে সাইফুদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম রয়েছে এবং পরিবারতন্ত্রের ধারা চলমান। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি পরিবারতন্ত্র থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।’

সাইয়্যিদ-সাইফুদ্দীন-আহমদ-আল্-হাসানী-2

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজনীতি যখন করছি, তখন নির্বাচনের টার্গেটতো অবশ্যই রয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আশা করছি ৩০০ আসনেই মনোনয়ন দিতে পারবো। বাকিটা পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’

রাজনৈতিক জোট করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব একটা আদর্শ রয়েছে। তাছাড়া আমরা রাজনীতি করছি গণমানুষের জন্য। যাদের সাথে আমাদের আদর্শগত মিল থাকবে এবং জনগণের কল্যাণ সাধন হবে। তাদের কারোর সাথে যেতে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) কোনও আপত্তি নেই।’

ইসলামি দলগুলোর সমন্বিত কোনও জোটে যাবেন কিনা, এমন প্রশ্নে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভাণ্ডারী উল্লেখ করেন, ‘উপমহাদেশের রাজনীতিতে অনেকদিন আগে থেকেই জোট নির্ভর রাজনীতি চলছে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। ইসলামি অনেক দলের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে।’

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি বাস্তববাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে সাইফুদ্দীন আল হাসানী বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি অপরাজনীতি, মজুতদারী, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনেকদিন থেকেই মাঠে রয়েছি। নির্বাচন বিষয়ে আমরা মনে করি বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতেই হবে। তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যত শক্তিশালী করার বিকল্প আছে বলে আমার দল মনে করে না।’

নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘নির্বাচনের আরও এক বছর রয়েছে। আমরা নির্বাচনি ইশতেহার তৈরিসহ ব্যাপকভাবে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেহেতু আমরা গণমানুষের জন্য রাজনীতি করছি। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে গণমানুষের দাবিগুলোই উঠে আসবে।’