‘বেগম রোকেয়া ছিলেন বাঙালি রেনেসাঁর অন্যতম পথিকৃৎ’

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘অনেকে মনে করেন বেগম রোকেয়া শুধু নারী মুক্তির জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু আসলে তা নয়, তিনি ছিলেন মূলত মানবহিতৈষী ও বাঙালি রেনেসাঁর অন্যতম পথিকৃৎ।’

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে বিকাল সাড়ে ৩টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে  সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম আয়োজিত 'নারী সমাবেশে' তিনি একথা বলেন।  আজ বেগম রোকেয়ার ১৪২তম জন্মদিন ও ৯০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঢাকাসহ সারা দেশে আমাদের আজকে বেগম রোকেয়া দিবস পালন হচ্ছে।

নারী সমাবেশে বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘বেগম রোকেয়া পথ চলতে গিয়ে অনেক কটূ কথা শুনতে হয়েছে, অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি সেগুলো পায়ে মাড়িয়ে তার পথে এগিয়ে চলেছেন।’

বেগম রোকেয়া যে বিষয়গুলো নিয়ে লড়েছেন বাংলাদেশে আজও আইনগতভাবে সেগুলো স্বীকৃতি পায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় নারীদের শোষণের জন্য দায়ী। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে।’

এসময় তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকারের সংগ্রামকে ভোটাধিকারের সংগ্রাম, গণতন্ত্রের সংগ্রাম,শোষণ মুক্তির সংগ্রামের সাথে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এবং আমাদের সবাইকে সেই লড়াইয়ে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে। 

সমাবেশে সমাজতান্ত্রীক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসুর সভাপতিত্বে সংগঠনের উপদেষ্টা রওশন আরা রুশো, বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন। 

এসময় বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। কীভাবে অধিকার আদায়ে লড়তে হতে তার জন্য তিনি আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন। তার মূল শিক্ষা ছিল অধিকার আদায়ে অবশ্য প্রথমত নারী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আর সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীদেরও এগিয়ে যেতে হবে। নারীরা পিছিয়ে থাকলে সমাজ পিছিয়ে থাকবে।

নারী বক্তারা বলেন, নারীরা সমাজে পুরুষের সমান কাজ করেও ন্যায্য মজুরি পাই না। অথচ নারীরা পুরুষের চেয়ে কম কাজ করেন না। বরং অনেকক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি কাজ করেন। নারীর অধিকার নিশ্চিতে বেগম রোকেয়ার শিক্ষা লালন করতে হবে মননে, মস্তিষ্কে। 

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।