‘আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে যে আন্দোলন গড়ে উঠবে তাতে এই সরকারের বিদায় নিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘আমরা একত্রিত হয়েছি যুগপৎ আন্দোলন করছি, একজনের ইচ্ছা থেকে বেরিয়ে বহুজনের ইচ্ছের দাম দেওয়ার জন্য।’
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি কাউন্সিলে অংশ নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসব মন্তব্য করেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আগামীতে আমরা যুগপৎভাবে যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। সেটা হবে ঐতিহাসিক প্রতিবাদ। সবাইকে আহ্বান করছি— অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ সরকারকে বুঝিয়ে দিন তাদের সঙ্গে মানুষ নেই। আমি মনে করি, জনগণ অবশ্যই এই সরকারকে বিদায় করবে। জনগণের কাছে ইয়াহিয়া খান টিকতে পারেনি, আইয়ুব খান টেকেনি, এরশাদও টেকেনি এই সরকারও টিকতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র বিলীন হয়ে গেছে, গণতন্ত্র এখন আর নেই। এখন এক গণতন্ত্র, উনি যা ইচ্ছে করেন সেটাই হয়। তাছাড়া আর কারও ইচ্ছায় চলে না। তাই আমরা একত্রিত হয়েছি যুগপৎ আন্দোলন করছি, একজনের ইচ্ছা থেকে বেরিয়ে বহুজনের ইচ্ছের দাম দেওয়ার জন্য।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেএসডির অসম আব্দুর রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
এরআগে, শুক্রবার দলের দশম কংগ্রেস উদ্বোধনকালে ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মতো লড়াকু দল আছে বলেই এখনও আশা আছে, ভরসা আছে। তাদের জানবাজি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আশা করা যায়— এ দুঃসময়কে আমরা অতিক্রম করতে পারবো। সমাজতন্ত্র ছাড়া দেশ ও জনগণের মুক্তি নেই।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আজ সব বিরোধী দল ও জনগণ রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। জনগণের এ ঐক্যই সরকারকে পিছু হঠতে বাধ্য করবে। দেশের কোটি কোটি মানুষ আজ অনাহারে। এই মানুষের জন্যই আজ বিপ্লব প্রয়োজন।’
দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘গত চার বছর ধরে জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকতে যেয়ে সরকার সমগ্র দেশ ও জনগণের গনতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভোটের অধিকারসহ জনগণের গনতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার এখন স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলে আরেক নতুন প্রতারণা শুরু করেছে।’
‘অধিকারবিহীন মানুষের স্মার্ট হবার কোনও সুযোগ নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে গত দেড় দশকে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে৷ অথনৈতিক দিক দিয়েও বাংলাদেশকে গভীর সংকটের মুখে ফেলা হয়েছে। এই সরকারের কাছে এখন দেশ, জনগণ, কোনও কিছুই এখন নিরাপদ নয়।’ উল্লেখ করেন সাইফুল হক।
এর আগে ইঞ্জিনিয়ারর্স ইনস্টিটিউশনের চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জাফরউল্লাহ চৌধুরী ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সাইফুল হক। কংগ্রেসের মুক্তিযুদ্ধের শহীদসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানান ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (এল - এল) লিবারেশন ও নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কংগ্রেসে আগত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কয়েক হাজার নেতাকর্মীর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।