গুলজা গণহত্যাসহ উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীনের নির্যাতনকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন দাবি করে জাতিসংঘের অধীনে এসবের তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইসলামিক প্রগতিশীল জনতা ফ্রন্ট।
একইসঙ্গে ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বকে উইঘুরে মুসলমানদের রক্ষায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ) জাতীয় প্রেসক্লাবে গুলজা গণহত্যার ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘উইঘুর মুসলিমদের মুক্তি আর কতদূর’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।
ইসলামিক প্রগতিশীল জনতা ফ্রন্ট আয়োজিত এই আলোচনা সভায় লেখক, গবেষক, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন ইসলামী দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ইসলামিক প্রগতিশীল জনতা ফ্রন্টের আহ্বায়ক মাওলানা আতাউর রহমান আতীকির সভাপতিত্বে সভায় আলোচক ছিলেন সম্মিলিত ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবু জাফর কাসেমি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শহিদুল্লাহ আনসারী, ইসলামী মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান, ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
সভায় ব্ক্তারা বলেন, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিবেচনার মারপ্যাঁচে উইঘুর মুসলিমদের ইতিহাস সংগ্রাম, নির্যাতন, নিষ্ঠুরতায় পরিপূর্ণ। ফিলিস্তিনি, মুর, রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে মানুষ জানলেও চীনাদের রক্ষণশীল, নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ব্যবস্থার কারণে উইঘুরদের বাস্তব পরিস্থিতি ও গুলজা ট্রাজেডি সম্পর্কিত তথ্য সাধারণ পর্যায়ে এখনও স্পষ্টভাবে পৌঁছায়নি।
১৯৯৭ সালের জানুয়ারির শেষ সময় থেকে শুরু করে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের গুলজা শহরে স্বাধীনতাকামী মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের দমন-নিপীড়নের সেই দুঃসহ ঘটনা ‘গুলজা গণহত্যা’ নামে পরিচিত। এ সময় ২০০ মানুষকে এসময় হত্যা করা হয়। অসংখ্য মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি ১৬০০ মুসলিমকে সরকারি হিসেবেই গ্রেফতার করা হয়। নিরস্ত্র জনতার ওপর এমন আগ্রাসনের ফলে অনেকই চীন থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে আফগানিস্তান, পাকিস্তানে গেলে সেখানেও রেহাই হয়নি। তৎকালীন আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের মুখে পড়ে ইতিহাসের ঘৃণিত ও কুখ্যাত গুয়ান্তানাম বে কারাগারে নতুন ঠিকানা হয়।
এমনকি চৈনিক বাহিনী মার্কিনিদের সহায়তায় সেখানে গিয়েও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারিরীক ও মানসিক নিপীড়ন চালায়।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, সেপ্টেম্বর ২০২২ জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের বরাতে বিবিসি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, জিনজিয়াংয়ে মোট উইঘুর মুসলিম ১ কোটি ২০ লাখ। জিনজিয়াংয়ে সরকার নিয়ন্ত্রিত বন্দি শিবিরে বন্দি আছে আনুমানিক ১০ লাখ মুসলমান। এমনকি অন্য ধর্মাবলম্বীও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
চীনা সরকার মিডিয়ার সব কর্মকাণ্ড স্তব্ধ রেখে বছরের পর বছর ২২ লাখ মুসলিমকে বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখে তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্যাতন, যৌন নীপিড়ন, হত্যাসহ অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীনারা পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এদেশের মুক্তিকামী জনতা তাদের সহযোগিতা পায়নি।