আ. লীগের ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেবে জনগণ: সাকি

আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, তাদের এই স্বপ্ন জনগণ ভেঙে চুরমার করে দেবে।

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদী পদযাত্রার আগে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের পদত্যাগসহ ১৪ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সমাবেশ আয়োজন গণতন্ত্র মঞ্চ।

সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার দেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করলে ওই দেশে আর কিছু ধ্বংস করতে হয় না। তারা (সরকার) সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। যেখানে শিক্ষা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হয়, সেখানে তারা শিক্ষা দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার সমস্ত নীতি কার্যকর করছে। আবারও ক্ষমতায় থাকার সুবিধা করার জন্য তারা এটি করছে। দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করে আপনাদের (সরকার) ক্ষমতায় থাকার এই স্বপ্ন জনগণ ভেঙে চুরমার করে দেবে।

তিনি আরও বলেন, লুটপাট, দুর্নীতি, দেশকে বিভাজিত করে দেশের সার্ববৌমত্ব হুমকির মধ্যে ফেলাই হচ্ছে এই সরকারের কাজ। এটাই তারা করতে থাকবেন। বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও সরকারকে সুবিধা দিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় তারা (সরকার) এখন সেই চেষ্টা করছেন।

গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদী পদযাত্রা

সাকি বলেন, আজ এই সরকারের পেটুয়া গুন্ডা বাহিনী সারাদেশে বিরোধী দলের ওপর হামলা করছে। গণতন্ত্র মঞ্চের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে। বিভিন্ন জেলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের আন্দোলনে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পদত্যাগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং আগামী সংসদে রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক গুণগত সংস্কার আদায় ছাড়া জনগণ রাজপথ থেকে ফিরবে না বলে মন্তব্য করেন সাকি। তিনি বলেন, এই তিনটি বিষয় দেশের জনগণের ভাগ্য নির্ধারণে এক সুতায় গাঁথা হয়ে গেছে। কাজেই এই লড়াইয়ের যে শক্তি, এই লড়াইয়ের যে নৈতিক ভিত্তি, তা এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের সত্ত্বার সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে যুক্ত। একে মোকাবিলা করার সামর্থ্য এই সরকারের নেই।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংগ্রাম এখন চলছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা বিরোধী দলগুলো একটি যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। অচিরেই একটি যৌথ ঘোষণার ভিত্তিতে এই যুগপৎ আন্দোলন আরও জোরদার হবে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবে।

সমাবেশ শেষে প্রতিবাদী পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত যান।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ জোটের নেতাকর্মীরা।