‘আবদুস সালামের পথ ধরে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে’

বীর মুক্তিযোদ্ধা গণসংহতি আন্দোলনের প্রথম কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (২৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বকারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আবদুস সালামের পথ ধরে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। গণতন্ত্রের লড়াই এভাবেই চালিয়ে যেতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্র ও প্রশাসনব্যবস্থা রূপান্তর এখন রাজনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়। আবদুস সালাম রাজনীতির এই চিন্তাকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসেছিলেন।’

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আবদুস সালাম বিপ্লবী ছিলেন, আন্দোলনে অগ্রসর ছিলেন; তবে নির্বাচনে অংশ নিতেন না। বর্তমান সময়ে সালাম ভাইয়ের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দরকার ছিল। আইন পেশাও এখন মাস্তানির ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আবদুস সালাম রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের চিন্তাকে নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি প্রাসঙ্গিক থাকবেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও আইন দ্বারা সর্বস্তরে দখল ও লুণ্ঠন কায়েম হয়েছিল। সেটা অনুধাবন করতে পেরে রাষ্ট্রের একাডেমিক আলোচনা রাজনীতির প্রায়োগিক কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পেরেছিলেন সফলভাবে। বর্তমান রাজনীতিতেও তা করতে হবে; যেভাবে ৬ দফার আন্দোলন হয়েছিল।’

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা বলেন, ‘রাষ্ট্রের গতিমুখ ঠিক করতে হলে জনগণের হাতে ক্ষমতা আনতে হবে। ভূরাজনীতির অঙ্ক দিয়ে সমাধান হবে না। রাজপথই সমাধান।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘অ্যাডভোকেট সালামের মতো সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ এখন খুব দরকার। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন ও ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচনের কলঙ্ক আওয়ামী লীগের গায়ে সারাজীবন থাকবে।’

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘অ্যাডভোকেট সালাম ছাত্রজীবনে যে আদর্শ ও রাজনীতি ধারণ করেছিলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই আদর্শ ধারণ করতেন। ধৈর্য ও সহনশীলতা রাজনীতির মূল কথা। কিন্তু বর্তমান সরকার সহনশীলতা হারিয়ে ফেলেছে। তাই রাজপথের লড়াই-ই পরিবর্তনের একমাত্র পথ।’