বাজেটে যেসব ইতিবাচক দিক পেয়েছে সুপ্রিম পার্টি

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ বছর থেকে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে।’

শনিবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘রাজেটে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও প্রসারের দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ৮০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। দ্বিতীয় গাড়ি থাকলে পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা হবে। কৃষি খাতে যন্ত্রপাতিতে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যথেষ্ট ভর্তুকি রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগগুলোকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’

বাজেটের অনেক বিষয়ই বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তা কীভাবে অর্জিত হবে তার সুনির্দিষ্ট পথ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের মানুষের জনজীবনেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এ সংকটকালে অবকাঠামো উন্নয়নের চেয়ে মানুষকে স্বস্তি দেওয়া বা দরিদ্র-মধ্যবিত্তদের কথা গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট নয়।’

সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান বলেন ‘আমরা মনে করি, বিভিন্ন ভাতা ন্যূনতম দুই হাজার টাকা করা প্রয়োজন। সরকারি সেবা পেতে, ন্যূনতম কর দুই হাজার টাকা করার বিষয়টি আমরা সমর্থন করতে পারছি না। কারণ সেবা পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের। ধনীদের সারচার্জের ন্যূনতম সীমা ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ দুটি বিষয় বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার চেতনাবিরোধী। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে। এমনিতেই দেশের ব্যাংক খাত চাপে রয়েছে। বিদেশি ঋণের বোঝাও বাড়তে পারে। খেলাপি ঋণ মাত্রাতিরিক্ত। বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত বড় পরিমাণ অর্থ দিলে বিনিয়োগ হ্রাস পেতে পারে।’

সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বলেন, ‘রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন অনেক চ্যালেঞ্জিং। চলমান অর্থবছরেও এনবিআর তার লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নও ৫০ শতাংশর মতো। রাজস্ব বা এডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই হবে না, তা বাস্তবায়নের সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনে করছে, বাজেট বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং। উল্লিখিত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করে জনগণের জন্য অধিক কল্যাণকর বাজেট পাস করাই যৌক্তিক হবে।’