চট্টগ্রামে গণতন্ত্র মঞ্চের পদযাত্রায় হামলা ও সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মশাল মিছিলের আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ। কিন্তু পুলিশি বাধায় সেটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) রাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পদযাত্রা কর্মসূচি ছিল। চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ মিলে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। আজকে বিএনপির পদযাত্রায়ও মিরপুরে বাঙলা কলেজের সামনে হামলা করেছে। পরে তারা পদযাত্রার কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পালিয়েছে। হামলা হয়েছে পিরোজপুরে, খাগড়াছড়িতেও। আজ লাখ লাখ মানুষ কী দাবিতে নেমেছেন? এই সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে তারা নেমেছেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে, এই প্রস্তাবনা আমরা দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের মশাল মিছিল ছিল। কিন্তু পুলিশ যেভাবে আমাদের মশাল কেড়ে নিলো, এটা কোনও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এই কর্মকাণ্ডের জন্য আপনারা বিপদে পড়বেন। অতীতে যারা ভোটচুরি, কারচুপির সঙ্গে যুক্ত তারা যেমন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছেন, ভবিষ্যতে যারা করবেন, তারাও নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। হিরো আলমকে পিটিয়ে আজকে আওয়ামী লীগকে জিততে হয়েছে। চিন্তা করেন, অবস্থাটা কোথায় যাচ্ছে।’
সাইফুল হক আরও বলেন, ‘মানুষের ঘরে খাবার নাই। তারা একদিন চললে আরেক দিন কীভাবে চলবে, সেটি নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করবেন। আওয়ামী লীগের এখন মন খারাপ, বিরোধী দল কেন বিশৃঙ্খলা করে না। কেন আমরা ভাঙচুর করি না, জ্বালাও-পোড়াও করি না। তারা উসকানি দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের এগুলো করার দরকার নেই। আমাদের যে দাবি, এটা এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।’
সমাবেশে ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন, সারা দেশে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। এই ধরনের ন্যাক্ক্যারজনক হামলা যখন হয়, তখন বুঝে নিতে হবে— এই সরকার ভয় পেয়ে গিয়েছে। যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা চলবে তার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আজকে চট্টগ্রামে গণতন্ত্র মঞ্চের পদযাত্রায় যে হামলা হয়েছে, সেখানে আমাদের ১৫ জনের ওপরে কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আজকে সরকার এই দেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছে, যেখানে কেউ তাদের অধিকারের কথা বলতে পারবে না। এই দেশের জনগণ এখন পথে নেমে এসেছে। এই দেশের জনগণ এই সরকারকে আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমরা রক্ত দিয়ে এই সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করে ছাড়বো।’
এ সময় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।