অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: সাইফুল হক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৫আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৫

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষায় বিএনপি সরকারকে একশোতে একশো নম্বর পেতে হবে। অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি-বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, বিএনপির জন্য দেশপ্রেমের প্রথম বড় পরীক্ষা হলো, কঠোর গোপনীয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সই করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি অন্যায় ও অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা। যেহেতু বিএনপির কাছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সেহেতু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় দলটিকে একশোতে একশো নম্বর পেতে হবে। দ্রুত রাজনৈতিক ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে। সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের এক প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী বিএনপির হাতে জাতীয় অর্জনের যে তিনটি ট্রফি রয়েছে, বিএনপি সরকারকে অবশ্যই তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কেন বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি সই করলো, তার কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। যে চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের কোনও দায় নেই, কেন তারা একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে এ রকম একটি চুক্তি চাপিয়ে দিয়ে গেলো এ পর্যন্ত তারও কোনও সদুত্তর মেলেনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় ও অন্যায্য হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকেও মেনে চলতে হবে, আমদানি করা মার্কিনী কোনও পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা যাবে না। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ এমন কোনও দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লী, জ্বালানি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনতে পারবে না যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত হবে। চুক্তির ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গৃহীত সীমান্ত বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশকেও ‘পরিপূরক বিধিনিষেধ’র ব্যবস্থা নিতে হবে। এর অর্থ হলো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা  অথবা  বাণিজ্যিকযুদ্ধে বাংলাদেশকেও তার অনুরূপ অবস্থান গ্রহণ করতে হবে; পরাশক্তির দ্বন্দ্ব-সংঘাতে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারবে না। আর  ‘কিছু নির্দিষ্ট দেশ’ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটা কমাতে হবে; যা আসলে চীনের দিকেই ইঙ্গিত করে। দীর্ঘ চুক্তির নানা ধারার শর্তে এটা স্পষ্ট যে, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের ওপর অন্যায়, অবমাননাকর ও আপত্তিজনক বেশ শর্ত চাপানো হয়েছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গুরুতরভাবে হুমকির মুখোমুখি করা হয়েছে। কোনও স্বাধীন সার্বভৌম-আত্মমর্যাদাবান দেশ ও তার জনগণ এ ধরনের অন্যায় ও একপাক্ষিক চুক্তি গ্রহণ করতে পারে না।

মতবিনিময় সভায় সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এই চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশকে বেশি দাম দিয়ে মার্কিন পণ্য কিনতে হবে। মার্কিন শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এলেও তাতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়েনি। এই চুক্তি বহাল থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারবে না।

তিনি বলেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রতিকূলে বাণিজ্যিক বৈষম্য আর বাড়বে। কারণ এই চুক্তিতে প্রাপ্তির চেয়ে বঞ্চনা অনেক বেশি। এটা কোনোভাবেই মুক্ত বাণিজ্যের চুক্তি নয়। এই চুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণ করা যাবে না।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের-বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই ধরনের চুক্তি করার কোনও এক্তিয়ার নেই। বাণিজ্য চুক্তির নামে বাস্তবে মার্কিনীদের সঙ্গে তাদের স্বার্থে প্রতিরক্ষা চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির হোতাদের তিনি বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বিএনপি সরকারকে অবশ্যই এই চুক্তি থেকে সরে আসতে হবে। কোনও দেশপ্রেমিক মানুষ এই চুক্তি গ্রহণ করতে পারে না।

কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি। মালোয়শিয়া এই ধরনের চুক্তি বাতিল করতে পারলে আমরা পারবো না কেন!

লেখক সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারী কায়দায় এই অন্যায় অসম চুক্তি করা হয়েছে। গোষ্ঠীগত বিশেষ স্বার্থে অধীনতামূলক এই চুক্তি করা হয়েছে এই চুক্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন– গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আবদুন নূর, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান প্রমুখ।

/এএইচএস/আরকে/
সম্পর্কিত
শাসক শ্রেণি শ্রমিকের ভোট চায়, অধিকার দিতে চায় না
কেমন সংসদ চাই
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের আগ্রাসন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস: সাইফুল হক
সর্বশেষ খবর
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
কারামুক্ত স্বামীকে জড়িয়ে কাঁদলেন স্ত্রী, আবার ধরে নিয়ে গেলো ডিবি পুলিশ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ
সোভিয়েত ভূমিতে জসীম উদ্‌দীন
সোভিয়েত ভূমিতে জসীম উদ্‌দীন
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
কেন্দ্র ও তৃণমূলের মাঝে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপিতে?
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি