জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কাছে এবি পার্টির যত অভিযোগ

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) একটি প্রতিনিধিদল। পূর্বনির্ধারিত এ বৈঠকে বিরোধীদলগুলোর বিক্ষোভ এবং সমাবেশের সময় দেশজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে দলীয় উদ্বেগ তুলে ধরেন দলটির নেতারা।

সোমবার (২১ আগস্ট) গুলশান-২ এ জাতিসংঘের ঢাকা আবাসিক দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, সহকারী সদস্য সচিব ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি অংশগ্রহণ করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা এবং অন্য একটি ‘বিতর্কিত’ সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে এটা প্রতিস্থাপনের বিষয় উল্লেখ করে এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা বলেন, ‘এটা চোখে ধুলা দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস এবং নতুন বোতলে পুরানো মদ উপস্থাপনের উজ্জ্বল নজির।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘের প্রতিনিধি নির্বাচন পরবর্তী সংস্কার সম্পর্কে এবি পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও খসড়া পলিসিগুলো তুলে ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে।

এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক, গোয়েন লুইস ছাড়াও ঢাকা দফতরের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান উপস্থিত ছিলেন।

এবি পার্টির প্রতিনিধিদল প্রাথমিকভাবে বিগত তিন বছরে তাদের দল গঠনের ইতিহাস, এর প্রেক্ষাপট এবং বিস্তৃতির বিস্তারিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এর থেকে উত্তরণ এবং পরবর্তী নতুন প্রজন্মের রাজনীতি ও এর বিপরীতে রাষ্ট্রযন্ত্রের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানার যে আগ্রহ, তাকে স্বাগত জানান এবি পার্টি নেতারা। দলটির পুরোনো ধারার গতানুগতিক বংশ পরম্পরার রাজনীতি থেকে পরিত্রাণের জন্য একটি নীতিভিত্তিক, সমস্যা সমাধানের রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সামনের দিনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।