গণতন্ত্র মঞ্চের কালো পতাকা মিছিল

পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘এই সরকার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে তার পকেটে ঢুকিয়েছে। এমনকি বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে শেখ হাসিনা এখন পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করেছেন। আদালত, পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলতে চাই, সংবিধান ও আইনি এখতিয়ার অনুযায়ী কর্তব্য পালন করুন। সরকারের দালালির প্রতিটার জবাব আপনাদের পেতে হবে।’

শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ছয় দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এসব কথা বলেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্ত করেছে। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভিত্তিতে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘ব্যাংক যারা লুট করেছে, তারা এই সরকারের মধ্যেই আছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম, তা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ। এই সরকারের অধীনে আমরা কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকার চোর। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুটপাটে ব্যস্ত। এই সরকারকে শুধু ক্ষমতা থেকে হটালে হবে না, চুরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না অভিযোগ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘এই সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো দেশটাকে লুটপাট করে খাচ্ছে।’

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘আপনি ভারতকে সব দিয়েছেন, প্রতিদানে ভারত আপনাকে ব্রিকসের সদস্য হতে দেয় না। আপনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে খালি হাতে এসেছেন।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, ‘মাফিয়ারা রাষ্ট্র ক্ষমতার সব খুঁটি দখল করে বসে আছে। এখন তারা বিচার বিভাগকেও টাকা পাচারের কাজে ব্যবহার করছে। সেই মাফিয়াদের একজন এস আলম গ্রুপের, তাদের টাকা পাচারের তদন্তেও তারা স্টে অর্ডার দিয়েছে। মাফিয়াদের আরেকজন দরবেশ বাবাকে বিশেষ বিবেচনায় ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।’

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দিন পাপ্পুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মামুন প্রমুখ।