সরকার বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখতে নানা ধরনের চক্রান্তের জাল বিস্তৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকটি বিরোধী দলের নেতারা। তারা বলছেন, সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বুধবার (৩০ আগস্ট) ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমার অডিটোরিয়ামে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের স্মরণে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’ নামে একটি সংগঠন।
অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই সরকার বাসে আগুন দেওয়া, হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া, মাদক ধরিয়ে দেওয়াসহ নানা ধরনের চক্রান্তের জালসহ সবকিছু করবে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মানুষের শক্তি নিয়ে আমরা রাজপথে দাঁড়াবো। তাদের সব শক্তিকে আমরা নস্যাৎ করে দেবো- সেই শপথ আমাদের নিতে হবে। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। কারণ, ওই ভয় পাওয়ানোটাই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।’
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ যে দেউলিয়া হতে যাচ্ছে এটা ঠেকানোর উপায় এই সরকারের নেই। তারা যতই বলুক তারা অভিজ্ঞ, বর্তমান বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট তারা কাটিয়ে উঠতে পারবে না। এই সরকার ক্ষমতায় থাকা মানে আরো গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে যাওয়া।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মমতা নেই। যতই কাঁদেন, তার চোখের কোণও ভিজবে না। এই সরকার যতদিন পর্যন্ত আছে, ততদিন পর্যন্ত গুম হয়ে যাওয়া মানুষের কোনও খবর পাওয়া যাবে না। আপনারা কষ্ট পেতে পারেন, তবে পাঁচ বছর আগেও এই কথা বলেছিলাম এবং আজও একই কথাই বলছি।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা কোনও প্রতিশোধের রাজনীতি করি না। কিন্তু যারা খুনি-ডাকাত এবং প্রতিটি গুমের সঙ্গে দায়ী তাদের বিচার করা হবে। দেশকে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ধারায় নিয়ে যাবো। সেই লড়াইয়ে আমরা গুম হওয়া পরিবারের সবার সঙ্গে ভাই-বন্ধু হিসেবে এগিয়ে যাবো। আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গে আছি এবং শেষ পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে থাকবো।’
অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনীতিকদের পাশাপাশি অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মানুষকে গুম করা হয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য তাদের হত্যা করা হয়েছে।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘সব সমস্যার সমাধান একজন। তিনি অমরত্ব লাভ করার জন্য আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান। এজন্য বিরোধী দল নির্মূল করার জন্য তার একটা টার্গেট থাকবেই। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য তানিয়া রব এবং মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী আফরোজা ইসলাম আঁখি প্রমুখ।