বিরোধী মত লালন করায় দমন-পীড়ন দেশকে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।
বুধবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে 'ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তামাশার তফসিল বাতিল এবং সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের' দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, খেলোয়াড়, নায়ক, গায়কদের নমিনেশন দেওয়া প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ একটি জনবিচ্ছিন্ন সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের এই পাতানো নির্বাচনে কোনও সচেতন নাগরিক ভোট কেন্দ্রে যাবে না বরং ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধ সরকারের পতন ঘটাবে।
তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বাসা চিহ্নিত করে আওয়ামী প্রশাসন দিয়ে গ্রেফতার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে।
পুলিশি পাহারায় এই ধরনের জঘন্য ফৌজদারি অপরাধ করা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আইন হাতে তুলে নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাজনীতি করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। শুধু বিরোধী মত লালন করায় দমন-পীড়ন দেশকে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।
এসময় অনতিবিলম্বে ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তামাশার তফসিল বাতিল এবং সকল রাজবন্দির মুক্তি দিয়ে অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের সঞ্চালনায় ও ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইবরাহীম হুসাইন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুহাম্মাদ আল আমিন সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আল আমিন, প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসাইন নূর, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক গাজী মুহাম্মাদ আলী হায়দার প্রমুখ।