দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)। দলটির পক্ষ হতে বলা হয়, নির্বাচনটি ক্ষমতাসীন দল ও তার দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট কারচুপির উৎসবে পরিণত করেছে।
বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন দলটির মহাসচিব ড. শাহজাহান।
লিখিত বক্তব্যে ড. শাহজাহান বলেন, 'সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতে ভোটে অংশগ্রহণ করে বিএনএম। কিন্তু নির্বাচনের দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার পর থেকেই আমাদের অধিকাংশ প্রার্থীকে নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ রাজনৈতিক দলের যারা একই ঘরানার আলাদা প্রার্থী হিসেবে পরিচিত, তাদের যার যেখানে দাপট খাটানোর মতো অবস্থা ছিল তারা সেখানে দাপট খাটাতে শুরু করে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় ব্যালট কেটে প্রিসাইডিং অফিসারদের বিশেষ কক্ষে নিজ নিজ বাক্স ভরতে শুরু করে, যা ক্রমেই ব্যাপক গতি সঞ্চার করে। একপর্যায়ে এটা তাদের জন্য ভোট কারচুপির উৎসবে পরিণত হয়। ফলে ভোটারদের ভোটদানে তেমন একটা অংশগ্রহণ না থাকলেও গণনায় বিশেষ দলের দলীয় বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপকভাবে এগিয়ে থাকাটাই ছিল স্বাভাবিক।
ড. শাহজাহান বলেন, ‘সরকার একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আসন ভাগাভাগি করে নেওয়া দলগুলো মিলেই ২৯৭টি আসন নিজেদের করে নিয়ে নেয়। যা বাস্তবতার ‘ শুধু অসঙ্গতিপূর্ণই নয়, বরং অকল্পনীয়ও বটে।’
সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। স্থানীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের সহায়তায় ভোটারদের ভয়ভীতি ও বাধা দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এর ফল সুখকর হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনএম স্থায়ী কমিটির সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, মো. আব্দুল্লাহ, হোসেন আহমেদ আশিক প্রমুখ।