২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হিজবুত তাহ্রীর। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুই আইনজীবী এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নূর মোহাম্মদ। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হিজবুত তাহ্রীরের ইমতিয়াজ সেলিম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিজবুত তাহ্রীরকে শুধু একটি প্রেসনোটের মাধ্যমে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ওই প্রেসনোটে কোনও স্মারক নম্বর, এসআরও নম্বর এবং কোনও আইনের ধারা উল্লেখ না করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশবর্তী হয়ে দলটির কার্যক্রমকে ‘জননিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এবং ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা বিরোধী’ আখ্যা দেয়।”
‘হিজবুত তাহ্রীর, বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় বরাবর কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার ওই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণও পেশ করেনি।’
উল্লেখ্য, নিষিদ্ধের ঘটনায় দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার একটি উপ-সম্পাদকীয়তে ফরহাদ মাজহার সরকারের তীব্র নিন্দা করে লেখেন, “…সরকার ব্যাখ্যা দেয়নি যে কেন হিজবুত তাহ্রীর জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এমনকি তারা কোনও প্রমাণও পেশ করেনি”। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রথম পাতায় “এজেন্ডা যখন ভিন্নমত দমন" শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদনে হিজবুত তাহ্রীরকে নিষিদ্ধ করায় সরকারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন।
‘অধিকার’-এর মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও এ ধরনের বেআইনি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করেছে। সংস্থাটি তার অক্টোবর ২০০৯-এর মানবাধিকার প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল— “...কোনও প্রমাণ পেশ না করে হিজবুত তাহ্রীরকে নিষিদ্ধকরণ নিয়মমাফিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্যবাহী প্রথার পরিপন্থি, এবং এটি সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভাবকে উন্মোচন করে দিয়েছে...”।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের কঠিন রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং অত্যাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলনে হিজবুত তাহ্রীরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকার বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট গভীরভাবে চিন্তা করে দেখার আহ্বান জানাই।’
এতে আরও বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামী’র উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার জন্য আমরা আপনাদেরকে স্বাগত জানাই। জামায়াতে ইসলামী ছিল ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের নিষেধাজ্ঞার সর্বশেষ শিকার, যেখানে আমরা ছিলাম তাদের প্রথম শিকার এবং গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা অসহায়ভাবে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করছি।’