রবিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বাদল বলেন, এই বিস্ফোরণ হওয়ার নেপথ্যে কাজ করেছে ইনুর অর্থিক অস্বচ্ছতা। মন্ত্রী হওয়ার পর অর্থ নিয়ে ওনার আচরণ সম্পর্কে দলে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে অস্পষ্টতা আছে, অস্বচ্ছতা আছে। দলীয় সভাপতি হিসেবে ব্যক্তিগত রাগ-অনুরাগ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন না। কিন্তু তিনি তাই নিয়েছেন। আমাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি ৬ বছর আমাদের প্রাক্তণ সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান সভাপতি) শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে কোনও কাজ করতে দেন নাই। বাধা সৃষ্টি করেছেন।
এ সময় বাধার নমুনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি (ইনু) সাধারণ সম্পাদককে পার্টি অফিসে বসিয়ে রেখে অন্যকে কাজের নির্দেশ দিয়ে চিরকুট পাঠাতেন, বাণী পাঠাতেন। এভাবে দল চলে না।
বাদল বলেন, আমরা তাকে (ইনু) বার বার বলেছি, সম্মেলনে কাউন্সিলরদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করতে দিন। কাউন্সিলরদের রায় আমরা নতচিত্তে মেনে নেওয়ার কথাও বলেছি। কিন্তু কাউন্সিলকে আপনার (ইনু) হঠকারীর, তথাকথিত মন্ত্রিত্বের ঔদ্ধত্যের কারণে ধ্বংস করেছে।
কার্যকরী সভাপতি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই দলটি যতবার ভেঙেছে ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই দলকে স্বচ্ছ, জনগণের দলে পরিণত করতে চাই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা ১৪ দলীয় জোটে থাকবো। তবে ১৪ দলে আমাদের অবস্থান অনেক স্বচ্ছ হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দলের ৬ জন সংসদ সদস্যের ৪ জন আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তারা হলেন, আমি নিজে, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, রেজাউল করিম তানসেন ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য লুৎফা তাহের। দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৪ সদস্যের মধ্যে ১০ জনই আমাদের সঙ্গে আছেন।
তিনি বলেন, আমাদের কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত ছিল, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক-কার্যকরী সভাপতি একবারের বেশি স্বপদে থাকতে পারবেন না। সে একবারের বদলে আমরা তিনবার (২০১২ সালের পর আর কাউন্সিল হয়নি) পর করে দিয়েছি। আমাদের দলে কথা উঠেছিলো দলের কেউ যদি নির্বাহী দায়িত্ব গ্রহণ করেন তবে তিনি দলের পদে থাকতে পারবেন না। যে কোনও একটি দায়িত্ব রাখতে পারবেন, যা সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে প্রচলিত আছে।
দলটির কার্যকরী সভাপতি বলেন, আমাদের ক্ষেত্রে এই দুটি বিষয়ে আলোচনা করে হাসানুল হক ইনুকে কাউন্সিলররা সুযোগ দিয়েছেন। উনি সভাপতি ও মন্ত্রী দুটোই থাকতে পারবেন। সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে, আপনার (ইনু) সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকতে পারে, অনুরাগ থাকতে পারে, সবকিছুই থাকতে পারে। সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু সেখানে আমরা লক্ষ্য করলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিরিন আখতারের নাম প্রস্তাব করা হলো। এটা আসতেও পারে। শিরিন আখতারের নাম প্রস্তাব করার পর সমর্থন করা হয়েছে। সেটাও হতে পারে। কাউন্সিলরদের মধ্য থেকে কেউ বললো পাস পাস, শিরিন আখতার পাস। সেটাও হতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার বলতে পারেন না, পাস হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাজমুল হক প্রধানের নাম প্রস্তাব করেন। তখন কাউন্সিলররাও সমর্থন করেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন বলেন, আপনারা ১ ঘণ্টার সময় দিন, খাওয়া-দাওয়া করেন আমরা গোপন ব্যালটের প্রস্তাব করছি। তারা (নির্বাচন কমিশন) যখন এই কথা বলছে, তখন পেশিশক্তির গ্রুপ স্লোগান দিচ্ছে- ‘ইনু-শিরিন এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’, শিরিন পাস হয়ে গেছে।
বাদল বলেন, আমাদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান কথা বলার সুযোগ চেয়েছেন, তখন নির্বাচন কমিশনার বলেন, আপনি এখন কথা বলতে পারবেন না। নাজমুল হক প্রধান সভাপতি ইনুর কাছে কথা বলার সুযোগ চেয়ে বলেছেন, আপনি আমাকে কথা বলতে না দিলে আমি চলে যাবো। তারপরও আমাদের প্রাক্তণ সভাপতি তাকিয়ে দেখেছেন, কিছুই বলেননি।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে সেখান থেকে প্রায় ৫০০ কাউন্সিলর আমাদের সঙ্গে সম্মেলন স্থল থেকে বেরিয়ে এসেছে। এক পর্যায়ে তাদের (বেরিয়ে আসা কাউন্সিলর) আমরা কমিটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি।
সংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বাদল জানান, আপাতত তাদের দলের কোনো নির্দিষ্ট অফিস নেই। জাসদের যে অফিসটি রয়েছে তা চারজনের নামে। এর মধ্যে একজন কাজী আরেফ আহমেদ মারা গেছেন। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন হাসানুল হক ইনু। বাকি দুই জন আমাদের সঙ্গে আছেন। এইটা আইনি বিষয় এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ও দলটির একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পিএইচসি/এজে