প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণভাবে কার্যকর নেই: গণসংহতি

জোনায়েদ সাকি নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলন অভিযোগ করেছে, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিপূর্ণভাবে কার্যকর অবস্থায় নেই। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটছে।’

‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলা, নারী হয়রানি এমনকি মাজারেও হামলা চলছে। অবিলম্বে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুমের মতো ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সরকারকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে আহ্বান জানাই।’

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন গণসংহতির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের শক্তির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং কোনও কোনও মহলের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিষয়েও আমরা সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের অভাব দেখছি। পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান, এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা, তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া ইত্যাদি জরুরি বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রয়োজন।’

‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ ও মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়েও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস। এখানে কেউ অগ্রবর্তী ভূমিকা নিতে পারেন কিন্তু সমস্ত জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এটা কখনোই সাফল্যের দিকে যেতে পারতো না। ফলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকার ছাত্র-শ্রমিক-মধ্যবিত্তসহ সমস্ত জনগণের আকাক্ষাকে ধারণ করবে, তাদের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পদক্ষেপ নেবে সেটাই কাম্য।’

 

দুর্গোৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘সামনে বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজা। এই দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাতে কোনোভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবমুখর পরিবেশের কোনও বিঘ্ন না ঘটে এবং একে কেন্দ্র করে কেউ যাতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার মতো ঘটনা ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কোনও সুযোগ নেই। গণঅভ্যুত্থানের আকাক্ষাকে এগিয়ে নিতে, এই সরকারকে সফল করতে, রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কাজেই অবিলম্বে যে সমস্ত ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করবেন এবং যৌথভাবে সেসব কাজে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ রচনা করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণসংহতি আন্দোলন ছাত্র-শ্রমিক-জনতার এই লড়াইয়ের সঙ্গে প্রথম থেকেই ছিল এবং আছে। এই অভ্যুত্থানের শহীদরা যাতে ন্যায়বিচার পান, আহতরা যাতে সঠিক চিকিৎসা পান, সে বিষয়ে আমরা সম্ভাব্য সকল উপায়ে সোচ্চার থাকতে ও পদক্ষেপ নিতে চেষ্টা করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে বিফ্রিং করেন ও প্রশ্নের উত্তর দেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন, কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, দীপক রায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আলিফ দেওয়ান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মনিরুল হুদা প্রমুখ।

 

গণসংলাপ কর্মসূচি

আগামী নভেম্বর পর্যন্ত গণসংলাপ কর্মসূচি দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে, ১৭ অক্টোবর বরিশাল, ১৮ অক্টোবর খুলনা, ১৯ অক্টোবর রাজশাহীতে, ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে, ২৬ অক্টোবর রংপুরে, ১ নভেম্বর সিলেটে, ২ নভেম্বর ময়মনসিংহে গণসংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ নভেম্বর ঢাকায় গণসংলাপের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই কর্মসূচি।