বিশিষ্ট বামপন্থি রাজনীতিক এবং বুদ্ধিজীবী ও ইতিহাসবিদ বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
রবিবার (৭ সেপেটম্বর) দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সই করা এক বিবৃতিতে বদরুদ্দীন উমরের পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থানের সাথে জাসদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য থাকলেও এ দেশের বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মার্কসীয় রাজনীতির পাঠদানে বদরুদ্দীন উমরের অবদান জাসদ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।’
গণঅধিকার পরিষদের শোক
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
শোকবার্তায় গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে এক অবিচল যোদ্ধা ও অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তার লেখনী, চিন্তাধারা এবং অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও গণমানুষের মুক্তির আন্দোলনে স্থায়ী অবদান রেখে যাবে।’
গণঅধিকার পরিষদ নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির শোক
শোক বিবৃতিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘গত ছয় দশক ধরে চিন্তা ও মননশীলতার বদরুদ্দীন উমর অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি কয়েক প্রজন্মের রাজনৈতিক মানস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’
সাইফুল হক বলেন, ‘গত শতাব্দীর ষাট এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার নিশ্চিত জীবন ত্যাগ করে তিনি বিপ্লবী জীবন বেছে নিয়েছিলেন এবং মৃত্যু অবধি তিনি এই বিপ্লবী তৎপরতার সাথেই যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন এদেশের বিপ্লবী রাজনৈতিক সাহিত্যের পুরোধা ব্যক্তি। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে শুরু করে জীবনের ছয় দশক তিনি তার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলী ও লেখালেখির মধ্য দিয়ে চিন্তা ও মননশীলতার জগতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এই জনপদের কয়েক প্রজন্মের রাজনৈতিক মানস গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার মৃত্যুতে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে যে শূণ্যতা তৈরী হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির শোক বিবৃতি
বরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে গণমাধ্যমে পাঠানো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদের আমলে গণমানুষের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন রাজনীতিবিদ ও চিন্তক বদরুদ্দীন উমর। ২০২৪ সালের ডামি-নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে তাড়ানোর কথা বলেছিলেন তিনি।
এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার সময় এই গণআন্দোলনকে তিনি ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন এবং অতীতের অভ্যুত্থান সমূহের তুলনায় এটির ব্যাপকতা স্বীকার করেছিলেন।
এছাড়াও, বাহাত্তরের মুজিববাদী সংবিধানকে তিনি ১৯৭২ সালেই ‘চিরস্থায়ী জরুরি অবস্থার সংবিধান’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
এনসিপি মনে করে, একজন গবেষক ও লেখক হিসেবে তিনি তার লেখনীতে বস্তুনিষ্ঠ এবং নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস তুলে ধরতেন। বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের মুজিববাদী পাঠের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
নতুন বাংলাদেশে একাত্তরের জনযুদ্ধের প্রকৃত ও গণমানুষের ইতিহাসের তালাশ এবং পুনঃপাঠে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন।