বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এ কারণে তারা সংবিধানের চার মূলনীতিসহ দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। একাত্তরে গণহত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী যেকোনও ষড়যন্ত্র প্রাণ দিয়ে প্রতিহত করা হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহান বিজয়ের মাস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর যৌথ আয়োজনে আলোর মিছিল শেষে এমন শপথ করেন অংশগ্রহণকারীরা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে শুরু হয়ে আলোর মিছিলটি শিখা চিরন্তনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সবার হাতে ছিল প্রজ্বলিত মোমবাতি। তারা জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন।
পরে সমাবেশে শপথ পাঠ করান উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ সেলিম।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান আজ বিপন্ন। বন্দর বিদেশিদের দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে হলে প্রয়োজনে আরেকবার যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা জানাই। একাত্তরে পরাজিত হয়েই চার মূলনীতির বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছিল তারা। মুক্তিযুদ্ধের পর গোলাম আযম আরব দেশগুলোতে ঘুরে চাঁদা তুলে পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছিল। সেই পুরনো শকুনরা এখন দেশকে খামচে ধরেছে। ঐকমত্য কমিশনের বইয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের লেশমাত্র নেই। তিনি অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তাই তাদের আস্ফালন বাড়ছে। আমরা তাদের জীবন দিয়ে প্রতিহত করবো।
সিপিবির সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার কাছাকাছি। বিগত সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, তাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় রাজাকারদের পুনর্বাসন ও সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার কথা ছিল না। অথচ ইউনূস সরকার এসব কাজে সহযোগিতা করছে। তাই আমরা নতুন আরেকটি যুদ্ধের আহ্বান জানাই।