নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকটি গণআন্দোলন হতে পারে, দাবি মঞ্জুর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকটি গণআন্দোলন হতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।

মঞ্জু বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বলেছি, নির্বাচনের পরে যদি প্রার্থীরা সন্তুষ্ট না হন, ভোটাররা বলতে না পারেন যে তাদের মতের প্রতিফলন ঘটেনি তাহলে এর চাইতে দুঃখজনক কিছু আর হতে পারে না। আমরা মনে করি, সেটা কিন্তু আরেকটা গণআন্দোলনের ঘটনা ঘটাতে পারে। নির্বাচনকে যে কেউ যদি প্রভাবিত করার চেষ্টা করে এবং প্রশাসন যদি দুর্বলতার পরিচয় দেয়, ইসি অভিযোগ শোনার পরও কোনও ধরণের পদক্ষেপ না নেন তাহলে কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেকটি গণআন্দোলন ঘটতে পারে। এটা আমি আগান আগাম প্রেডিক্ট করলাম।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের অবজারভেশনগুলো ইসিকে আমরা বলেছি। সেটা হচ্ছে, নির্বাচন আচরণবিধি মানাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা দেখছি যে প্রশাসনের মধ্যে যে দৃঢ় অবস্থান থাকার দরকার ছিল তা অনেক ক্ষেত্রে নেই। সেক্ষেত্রে আমরা কিছু উদাহরণ স্পষ্ট করে তুলে ধরেছি। সেটা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তফসিল ঘোষণার আগে যে সমস্ত পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল সেগুলো প্রত্যাহারের তুলে নেওয়ার একটা নির্দেশনা ছিল। কিছু কিছু জায়গায় এটা মানা হয়েছে। কোনও কোনও জায়গায় রিটার্নিং অফিসাররা খুবই শক্ত ও দৃঢ় ছিলেন। ইভেন আমার যে আসন ফেনী-২তে আমাদের প্রত্যেক প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে দুইটা চারটা পোস্টার বিভিন্ন জায়গায় রয়ে যাওয়ার কারণে। কিন্তু, বাংলাদেশের আরও অনেক জায়গায় বিশেষ করে ঢাকা সিটিসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা দেখেছি, এই আচরণবিধি মোটেই তোয়াক্কা করা হয় নাই।”

আমাদের কাছে মনে হয়েছে রিটার্নিং অফিসাররা একেক জায়গায় একেক রকম নির্দেশনা প্রতিপালন করছেন জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, “কোথাও কোথাও কেউ শক্ত অবস্থান নিতে পারছেন না। দৃঢ় অবস্থান নিতে পারছেন না। সেটা আমরা উনাদেরকে (ইসি) তুলে ধরেছি। এরপরে আমরা কয়েকটা ঘটনার কথা উল্লেখ করেছি। আপনারা জানেন, বরিশালে ব্যারিস্টার ফুয়াদের আসনে এর আগেও তার ওপরে আক্রমণ করা হয়েছে। গতকালকেও আমরা দেখেছি যে তার নির্বাচনি আসনে প্রচারণায় বাঁধা দেওয়া হয়েছে। হামলা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ সমস্ত বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই।”

মঞ্জু বলেন, “আমার নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপরে বিএনপির সমর্থকরা হামলা করেছে। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় নানা রকম ঘটনা ঘটছে।”

প্রত্যেক কেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই প্রার্থী বলেন, “লোকাল যে স্কুল কমিটি আছে, লোকাল যে ইউএনও এবং জেলা প্রশাসকরা আছেন, সেখান থেকে হলেও কোনও না কোনোভাবে ফান্ড ম্যানেজ করে প্রত্যেকটা কেন্দ্র ও বুথকে সিসিটিভির আওতায় আনার ব্যাপারে ইসিকে পরামর্শ দিয়েছি। পরের সরকার কে আসে না আসে, প্রশাসনের কাছে একটা ভয়ভীতির ব্যাপার আছে।” 

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, “বেসিক্যালি আমরা যেটা দেখছি, অভিযোগটা (আচরণ বিধি ভাঙার) বিএনপির বিরুদ্ধে যায়। কারণ এ পর্যন্ত যতগুলো ঘটনা ঘটেছে এবং নিজেদের দলের মধ্যেও যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এগুলোর সিংহভাগ দায় বিএনপির মধ্যে যায়। আমরা কিন্তু বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। উনাদেরকে এটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বিএনপি এখন একটা পপুলার দল, যেহেতু তারা দীর্ঘ সময়ে একটা কঠিন ত্যাগ এবং নিপীড়নের মধ্যে ছিল। একইসঙ্গে জামায়াতও একটা পপুলার দল, তারাও একটা লম্বা সময় ধরে ডিপ্রেশনের মধ্যে ছিল। আমরা চাই, এই দুটো দলের মধ্যে একটা সৌহার্দপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকুক।”

নির্বাচন হওয়ার মত পরিবেশ আছে কি না জানতে চাইলে এই প্রার্থী বলেন, “নির্বাচন হওয়ার ব্যাপারে পরিবেশ সম্পূর্ণ আছে, সবাই কাজ করছে মাঠ পর্যায়ে। নির্বাচনে আমেজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু, যে আশঙ্কাটার কথা বললাম, সেটা আছে। এই জায়গাটা যদি প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে তাহলে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। এখনো পরিবেশ তৈরি হয়নি, ঘাটতি আছে।”