‘শেরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে’

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে গণসংহতি আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসান রুবেল ও সদস্য সচিব দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীর শোক জানাই।

আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেনি। ঠুনকো কারণে সংঘর্ষ সৃষ্টি ও সেখান থেকে হতাহতের ঘটনা হওয়াটা দুই দলেরই চরম দায়িত্বহীন আচরণের প্রকাশ। আমরা এই আচরণের নিন্দা জানাই।

তারা বলেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে আমরা বারবার বলছি, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচনের পরিবেশ মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা। এই কমিটি গঠন করলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনও পরিস্থিতি উপযুক্তভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হতো। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে সরকারের প্রস্তুতি এখনও আশানুরূপ নয়। অবিলম্বে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয় এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রেজাউল করিমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে সদর হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়।