আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ি আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান তার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে জুরাইন–দয়াগঞ্জ সড়কের পাশে মুন্সিবাড়ী মোড়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
একটি অপরিকল্পিত ময়লার ভাগাড়ের পাশে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পুরো ঢাকা-৪ আসন অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় একটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতীকীভাবে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এলাকার নাগরিক সমস্যার সমাধানের বার্তা দিতে সমস্যাযুক্ত স্থানেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
তার ইশতেহারের চুম্বক অংশগুলো হলো—
মহল্লা সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনে গলির ভুক্তভোগী জনগণকে দিয়ে গলি সমাজ গঠনের মাধ্যমে গলির নাগরিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে তদারকি ও জবাবদিহির কাঠামো গড়ে তোলা।
এমপির কাছে পৌঁছানো ও এমপির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এমপি হটলাইন ও ওয়েবসাইট চালু।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রমাগত রাস্তা উঁচু করার ভ্রান্ত উন্নয়নের বদলে সহজ, টেকসই ও সুলভ পদ্ধতিতে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা।
তিন মাসের মধ্যে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ এবং ‘রাস্তা সুরক্ষা চার্টার’ প্রকাশ ও বাস্তবায়ন। জনগণের সম্মতিতে চার্টারে নির্ধারিত থাকবে—যেকোনও রাস্তা খোঁড়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গলি সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে সাত দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে আগের অবস্থায় রাস্তা ফিরিয়ে দিতে হবে।
পানি সংকটের স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিলের বিপরীতে সেবা দিতে ওয়াসাকে জনগণের সঙ্গে নিয়ে বাধ্য করা। গ্যাস বৈষম্য বন্ধে তিতাসকে বাধ্য করা এবং সরাসরি এলপিজি প্রোভাইডারের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডার বিক্রয় ট্রাক এনে নায্যমূল্যে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ।
প্রতিটি মহল্লায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ওএমএস ও টিসিবি সেবা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে কার্ড ও পণ্য প্রাপ্তির ব্যবস্থা।
পচনশীল (জৈব বর্জ্য), অপচনশীল (রিসাইকেলযোগ্য) ও বিপজ্জনক বর্জ্য—এই তিন ক্যাটাগরিতে বর্জ্য সংগ্রহ চালু।
জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার খেলার মাঠ এবং ঘোষিত সরকারি স্পর্শকাতর স্থাপনা ছাড়া অন্যান্য সরকারি স্থাপনার উন্মুক্ত স্থান বিকাল ও ছুটির দিনে খেলাধুলা ও অবসর কাটানোর জন্য উন্মুক্ত করা।
রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে রেললাইনের দুই পাশে লক্ষাধিক ছায়াপ্রদানকারী দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো এবং সরকারি খাস পতিত জমি কিংবা ফাঁকা স্থানে মিয়াওয়াকি ফরেস্ট পদ্ধতিতে ছোট শহুরে বন তৈরির উদ্যোগ।
ময়লা পোড়ানো বন্ধ এবং দূষণকারী কারখানার তালিকা তৈরি ও নিরসনে ব্যবস্থা।
গলিতে নির্মাণকাজের সময় ধূলা কমাতে পানি ছিটানোসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা—গলি সমাজের মাধ্যমে তদারকি এবং সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ে ধূলার স্তূপ অপসারণ।
জনসমাবেশের সময় সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে দূর দূরান্তে মাইক ব্যবহারজনিত শব্দদূষণ বন্ধ করা।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি বাসাবাড়িতে একজন করে ‘ডেঙ্গুযোদ্ধা’ তৈরি এবং গলিসমাজের মাধ্যমে নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ তদারকি অভিযান। সিটি কর্পোরেশনকে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করতে বাধ্য করা।
প্রত্যেক ওয়ার্ডে মাসে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক দল ও জনগণের সমন্বয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক ও সরকারি হাসপাতাল তদারকি।
ঢাকা-৪ আসনের ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন মেরামত, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর মানসিক বিকাশে বহুমুখী উদ্যোগ, এমপির কোটা বাতিল, সময়মতো ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন, প্রতিটি ওয়ার্ডে গণপাঠাগার স্থাপন এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন।
প্রত্যেক গলির নারীদের নারী নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের আওতায় এনে হামলা বা হয়রানির ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ।
হকার ও টং দোকানদার উচ্ছেদ নয়, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনা।
সংসদে দেশবিরোধী ও প্রাণপ্রকৃতি বিরোধী প্রকল্প বন্ধে লড়াই, বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং গোপন চুক্তির বিরোধিতা।