জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নারীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ ও ‘আপত্তিজনক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত ১০ জন নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে তারা এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে বলা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের ঘর থেকে বের করা ‘পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ’। যদিও পরে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। তবে বাসদ (মার্কসবাদী) নেতারা বলছেন, ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান নিজেই দাবি করেছেন— জৈবিক ও সৃষ্টিগত কারণেই নারীরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসার অনুপযুক্ত।
বিবৃতিতে প্রার্থীরা বলেন, গত ১ ফেব্রুয়ারি জামায়াত আমির ফেসবুকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, তারা রাজনীতি ও স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নকে সমর্থন করেন। বাসদ (মার্কসবাদী)-র মতে, আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারের সঙ্গে এই ফেসবুক স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বিপরীত। যদি তারা নারী নেতৃত্বকে সমর্থনই করেন, তবে নারী কেন দলের প্রধান হতে পারবেন না— সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থীরা।
১০ নারী প্রার্থী তাদের বিবৃতিতে আরও বলেন, “জামায়াতের আমিরের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইশতেহারে তারা যা বলেন, বাস্তবে তা বিশ্বাস করেন না। ভোট পাওয়ার জন্য গণতান্ত্রিক সাজার চেষ্টা করলেও তাদের ভেতরে নারীদের নিয়ে চরম সংকীর্ণতা রয়ে গেছে। আমরা মনে করি, এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।”
বিবৃতিদাতা ১০ প্রার্থী হলেন— প্রগতি বর্মণ তমা (রংপুর-৪), রাহেলা খাতুন (গাইবান্ধা-৫), তৌফিকা দেওয়ান লিজা (জয়পুরহাট-১), শাহিনুর আক্তার সুমি (ঢাকা-৫), সীমা দত্ত (ঢাকা-৭), তসলিমা আক্তার বিউটি (গাজীপুর-১), সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (মৌলভীবাজার-২), মুনতাহার প্রীতি (নোয়াখালী-৫), আসমা আক্তার (চট্টগ্রাম-১০) ও দীপা মজুমদার (চট্টগ্রাম-১১)।
বিবৃতিতে প্রার্থীরা নারীদের সামাজিক সম্মান ও অধিকার নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।