বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস। বুধবার (৩ জুন) দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান, সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ এবং মাওলানা জাকির হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে মানুষ নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি শুধু গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে না, বরং এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপরও পড়বে।
তারা মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জীবনযাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং সীমিত আয়ের কারণে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি তাদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎ আধুনিক জীবনের কোনও বিলাসিতা নয়, এটি একটি অপরিহার্য সেবা। ঘরোয়া ব্যবহার থেকে শুরু করে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা—সবখানেই বিদ্যুতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়ার অর্থ হলো সরাসরি সব খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে বাজারে এবং স্বাভাবিকভাবেই সেই বাড়তি ব্যয়ের পুরো বোঝা ঘুরেফিরে সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই এসে পড়বে।
তারা আরও বলেন, জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপিয়ে না দিয়েও এ খাতকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
দলটির নেতারা অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার অথবা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তোলে—এমন কোনও পদক্ষেপ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।