প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই চেতনার প্রতিফলন নেই: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং অস্বচ্ছ ভর্তুকি ব্যবস্থা এখনও বহাল রয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে খাতটির কাঠামোগত সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভর্তুকির নামে অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীতে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং কার্যকর, বাস্তবায়নযোগ্য ও সংস্কারমুখী জাতীয় বাজেটের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জনগণের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে এবং অতীতের ভুল নীতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট বন্ধ করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং সমাজের সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, যেহেতু চেয়ারম্যানকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তাই সরকারের উচিত হবে অযথা অনড় অবস্থানে না থেকে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। ইসলামী ব্যাংক সবার ব্যাংক।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান সংকট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, অর্থনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা ও উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধিকে ভিত্তি করে বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং জনগণের গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আর্থিক খাতের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনও কার্যকর বাজেট প্রণয়ন বা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আকারে বড় কিন্তু ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট কখনও বাস্তবসম্মত হতে পারে না।

ফুয়াদ আরও বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও রাজস্ব নীতিমালা নির্ধারণের সাংবিধানিক দায়িত্ব জাতীয় সংসদের হলেও বাস্তবে তা আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এবি পার্টি বাজেট প্রক্রিয়াকে নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সংসদকেন্দ্রিক করার দাবি জানায়।

তিনি বলেন, জনগণকে ভর্তুকিনির্ভর বা কার্ডনির্ভর করার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির বিকাশে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট বা প্লটের মালিকদের করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন, সরকারের আকার ক্রমান্বয়ে ছোট করা, অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ বন্ধ এবং উন্নয়ন ব্যয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)ভিত্তিক ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর আহ্বানও জানান তিনি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে লুটপাটকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপের পরিবর্তে প্রথাগত চিন্তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সহ-সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা এবং সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারী উন্নয়নবিষয়ক সহ-সম্পাদক আমেনা বেগম, সহকারী দফতর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, বরিশালের নেতা জাকির হোসেন, ইমরান সরদার এবং খুলনার নেতা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া।