কেন ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করেছেন মেঘমল্লার বসু। তিনি সর্বশেষ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

মেঘমল্লার বসু সম্প্রতি আরেকটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তিনি ছাত্র ইউনিয়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তার পদত্যাগের চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বসুর অন্য সংগঠনের যুক্ত হওয়ার তথ্যও জানানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘমল্লার বসু সম্প্রতি নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) নাম সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল পদে হিসেবে আছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক এ নেতা।

তার ফেসবুক আইডি ঘেঁটেও এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেখানে এনপিএ-এর অনেক ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন এ তরুণ রাজনীতিক। সেখানে তার পদের বিষয়টিও নিশ্চিত করা আছে।

তার পদত্যাগের বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাঈন আহমেদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসুর দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একইসঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈততা বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট সৃষ্টি হতে পারে, যা উভয় সংগঠনের কার্যক্রম ও দায়বদ্ধতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

এই বিবেচনা থেকেই তারা স্বেচ্ছায় অব্যাহতিপত্র পাঠান। তাদের পদত্যাগের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নাজিফা জান্নাতকেও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

‎বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতির পরিপন্থি। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বিদায়ী নেতৃবৃন্দের দায়িত্ব পালনকালীন অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে বহন করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা কামনা করছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষার অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন ও সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পূর্বের মতোই দৃঢ় প্রত্যয়ে অগ্রসর হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।