‘সরকার এখনও হানিমুন মুডে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক’

বিএনপি সরকারের সাত মাস ১০ দিনের শাসনামলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। তার অভিযোগ, এরপরও সরকার এখনও ‘হানিমুন মুড’ থেকে বের হতে পারেনি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি বসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অপেক্ষা করেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। আবার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসার সামনে পতিত সরকারের সমর্থকেরা মিছিল করলেও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তার আগাম তথ্য থাকে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে মনোযোগ দেওয়া।

বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনায় জনগণের প্রতি দলটির দায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জিয়াউর রহমানের শাসনামলের উদাহরণ টেনে তিনি বর্তমান সরকারকে আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভাবার আহ্বান জানান।

শিশু নিখোঁজ ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ

শিশু নিখোঁজ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত শিশু নিখোঁজ হচ্ছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব দাবি করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া সরিয়ে দেওয়া এবং পরিবারে সচেতনতা তৈরি করা গেলে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। হলি ক্রসসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাদ্রাসায় এ ধরনের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও বিচার নিয়েও কথা বলেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত এক ব্যক্তির মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। সামাজিক লজ্জা ও রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকটের কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ষণ, জুলাই গণহত্যা, শহীদ ওসমান হাদি হত্যা, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে গালাগালি করা সমর্থন করেন না বলেও স্পষ্ট করেন।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, মানুষের ক্ষোভের কারণ রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের বুঝতে হবে। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জনঅধিকার নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।