নিজেদের সুবিধামতো আইন করে কোনও স্বৈরশাসক টেকেনি: মঞ্জু

নিজেদের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনও স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত হলেও ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে গিয়ে এমন কালাকানুন তৈরি করে, পরে সেই আইনের অপপ্রয়োগের প্রধান শিকারে পরিণত হয় নিজেরাই।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী—বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী প্রস্তাবে ২৬(ক) ধারায় ‘অযাচাইকৃত তথ্য’ ছড়ানোকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তার মতে, এই অস্পষ্টতার অপব্যবহার করে সরকার একতরফাভাবে বিরোধী মত ও পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক একটি রাজনৈতিক দলের—জামায়াতে ইসলামীর—সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার দাবি করেছেন। মঞ্জু প্রশ্ন করেন, এটিও কি অযাচাইকৃত তথ্য নয়? তাহলে ওই প্রশাসকেরও ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এক শ্রেণির নেতাকর্মীর সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, তারেক রহমান এ ধরনের নেতাকর্মীর নামমাত্র নেতা। তার দাবি, বাস্তবে তাদের ‘আধ্যাত্মিক ও নির্বাহী নেতা’ শেখ হাসিনা।

সাইবার পরিসরে অশালীন ভাষা ও মন্তব্যের বিষয়ে মঞ্জু অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করা হলে গ্রেফতার বা অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও অশ্লীল মন্তব্যের ক্ষেত্রে কোনও বিচার হয় না। এটিকে তিনি সরকারের দ্বৈতনীতি বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নিজেদের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনও স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন (এমপি), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম-সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, ডেইলি ওয়াদার ম্যানেজিং এডিটর ফয়সাল মাহমুদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, লেখক ও বিশ্লেষক এবং নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা।