মার্কিন চুক্তি আসলে ট্রাম্পের আদেশনামা: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বর্তমানেও দেশের স্বার্থবিরোধী নানান তৎপরতা থেকে মানুষের নজর ঘুরাতে নানারকম কৃত্রিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা অব্যাহত আছে। মার্কিন চুক্তি আসলে চুক্তি না। এটা ট্রাম্পের আদেশনামা। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেওয়া বোঝায় না। গণতন্ত্র মানে সরকার যা করছে, তার ওপর জনগণের কর্তৃত্ব কতটা সেটা দেখা। দেশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনগণের ভোটে নয়, ট্রাম্পের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সঞ্চলনা করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতা ইভান তাহসীব।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ব্রিটিশরা নিজেদের শোষণ বজায় রাখতে নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছড়াতো। মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে অর্জিত, নানান লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে অর্জিত একটা দেশে কীভাবে জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটা খেয়াল করলে দেখা যাবে। তবে শুধু নীরব, নিষ্ক্রিয় মৌন মানুষ হিসেবে থাকলে হবে না। এ ধরনের চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে। 

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আবদুল্লাহ কাফি রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু, ডা. হারুন অর রশিদ, শ্রমিকনেতা মানস নন্দী, আখতারুজ্জামান খান প্রমুখ।
 
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সমন্বয়ক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাহেরা বেগম জলি, গবেষক সুজিত চৌধুরী, সমাজচিন্তা ফোরামের সদস্যসচিব রঞ্জন দাশ শিবুসহ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সদস্যরা।