গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানসহ  ৬ দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৫আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান, রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কারখানা, বিদ্যুৎ বিতরণ ও জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ বন্ধ, ওষুধের সরকারি মূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যকর এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি‌। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যপক আনু মুহাম্মদ। গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক সালমান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা. হারুন অর রশিদ, গবেষক ও শিক্ষক মাহা মির্জা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা।

‎সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ফাহমিদুল হক, চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান, সংগীত শিল্পী অরূপ রাহী, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, এনপিএর নেতা বাকি বিল্লাহ, অনিক রায়, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের ঢাকা মহানগরের সম্পাদক ইকবাল কবীর, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, লেখক ও গবেষক মাহতাবউদ্দীন আহমেদ এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হলে কী কী বিপদ তৈরি হতে পারে তার একটা প্রদর্শনী করা হয়েছে।

‎ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, বর্তমানে বাজারে প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০টি জেনেরিক ওষুধ রয়েছে। কিন্তু ১৯৯৪ সালের আদেশের কারণে সরকার মাত্র ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যার সুযোগ নিয়ে বাকি ১২শ’ এরও বেশি ওষুধের দাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো নির্ধারণ করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই রোগীকে বহন করতে হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পায় না। দরিদ্র মানুষ তাদের আয়ের ৩৫ শতাংশ চিকিৎসার জন্য খরচ করেন।

‎এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে, চিকিৎসা ব্যয় অসহনীয় করে তুলবে। বাংলাদেশের ওষুধ খাতে বড় বড় শিল্পপতিদের বিনিয়োগ, যাদের টাকায় তারা দল পরিচালনা করেন, নির্বাচন পরিচালনা করেন, সরকারে আসেন। হেলথ কার্ড, বিনামূল্যে চিকিৎসা, সবার জন্য স্বাস্থ্য- এসব কথা তারা বলেন ভোট পাওয়ার জন্য। জনগণের জীবনের দায় তাদের ওপর নেই, তাদের ওপর আছে একেবারে নগ্নভাবে বৃহৎ ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার দায়।

‎মাহা মির্জা তার আলোচনায় বলেন, সরকারের মাত্র ছয় মাস পেরিয়েছে। কিন্তু এর মাঝেই আমরা দেখছি সরকার আগের সেই পলিসিই বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে বিগত সময় আমাদের দেশের শিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে। বাপেক্সকে দিয়ে একটি জরিপ করাতে যেখানে খরচ হচ্ছে ১০ লাখ টাকা কিন্তু সেখানে বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকায় করানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসের অভাবে কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। গত কয়েক মাসে দেশে প্রায় ১০ লক্ষ শ্রমিক বেকার হয়েছে। সেই পুরনো আমলের মতো পুনর্বাসন না করে বুলডোজার দিয়ে মানুষের ছোট পুঁজিকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, জীবিকা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে আমরা যখন সরকারকে প্রশ্ন করছি, তখনই আমাদের আগের আমলে কি হয়েছে না হয়েছে সেটা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এই সংকট সমাধানে সরকার কোনও কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রথম দিকে সরবরাহের উৎস বাড়ার সুবিধা দেখা যেতে পারে। তবে কয়েকটি বড় কোম্পানি বাজারের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণে নিলে পরে সরকারের ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি থাকবে। চিনি ও এলপিজির বাজারে বেসরকারি কোম্পানির ভূমিকার অভিজ্ঞতা থেকে এই ঝুঁকি দেখা যায়। কয়েকটি কোম্পানি বাজারের বড় অংশ দখলে নিলে তারা একসঙ্গে দাম বাড়ানোর অবস্থানে যেতে পারে। এতে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা কমতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব জনস্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে লোকসান নিয়েও সরবরাহ ধরে রাখতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায় নিশ্চিত না করে বাজারের বড় অংশ তাদের হাতে দিলে তা জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

‎গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য ও সভার সভাপতি অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে না। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে এবং চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারি ও বিরোধী দলীয় নেতারা গভীর ঐক্যে একত্রিত হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে পল্ট্রি, কৃষি, ওষুধসহ সব খাতে তীব্র সংকট দেখা দেবে। পূর্বে মতোই এখনো আমাদের দেশের জ্বালানি খাতকে নিয়ে জনস্বার্থ বিরোধী অপতৎপরতা চলছে। এখন আবার তারা ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পাঁয়তারা শুরু করেছে। গত ছয় মাসে তারা অনেক কাজ করতে পারতো যদি তাদের মাথায় জনগণের স্বার্থের কথা থাকতো। কিন্তু জনবান্ধব কাজে এই ছয় মাসে এই সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে না। সরকারের ঘাড় মাফিয়াদের দিকে ঘুরানো, খুব শক্তভাবে। যদি সেটা জনগণের দিকে ঘুরানো যায় তাহলে সরকার বিকল্প দেখতে পারবে।

 

/এএইচএস/আইএএম/
সম্পর্কিত
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট, চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার
জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে কাতারের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
এলএনজি সরবরাহে টান, গ্যাসের সংকটও কাটছে না
সর্বশেষ খবর
নয়া দিল্লিতে প্রেস মিনিস্টার হওয়া সাইদুর রহমানকে আরএফইডি’র সম্মাননা
নয়া দিল্লিতে প্রেস মিনিস্টার হওয়া সাইদুর রহমানকে আরএফইডি’র সম্মাননা
লন্ডনে বাংলাদেশি মাছুমকে কেন হত্যা?
লন্ডনে বাংলাদেশি মাছুমকে কেন হত্যা?
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফীক নাওয়াজ মারা গেছেন
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফীক নাওয়াজ মারা গেছেন
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট, চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট, চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসির বদলে ইনজেকশনের আবেদন, সুপ্রিম কোর্টের ‘না’
মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসির বদলে ইনজেকশনের আবেদন, সুপ্রিম কোর্টের ‘না’
ব্যাংকের বাইরে টাকা জমানোর নতুন সুযোগ, ১০ শতাংশ বরাদ্দ শুধু ব্যক্তিদের 
ব্যাংকের বাইরে টাকা জমানোর নতুন সুযোগ, ১০ শতাংশ বরাদ্দ শুধু ব্যক্তিদের 
আস্ত খাসি না দেওয়ায় বর বললেন ‘তুই বিয়ে কর’, বিয়ে না দিয়ে বের করে দিলেন কনের বাবা
আস্ত খাসি না দেওয়ায় বর বললেন ‘তুই বিয়ে কর’, বিয়ে না দিয়ে বের করে দিলেন কনের বাবা
চার দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক করলো দূতাবাস 
চার দেশের বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক করলো দূতাবাস 
প্রেম নাকি পরিবারের পছন্দে বিয়ে—কোনটিতে ভালোবাসা বেশি? গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
প্রেম নাকি পরিবারের পছন্দে বিয়ে—কোনটিতে ভালোবাসা বেশি? গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য