রাজধানীর ধানমন্ডি সাতাশ নম্বর সড়কে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একটি মানববন্ধন থেকে আটক বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলের মুক্তি দাবি করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে দীপক শীলের মুক্তি চাই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘গত কদিন ঢাকার বাইরে ছিলাম, ফিরছি ঢাকায়। পথে খবর পেলাম ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে ধানমন্ডি থেকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। যতটুকু খবর পেলাম, তাতে পরিষ্কার করে বলা যায় দীপককে গ্রেফতার করার কোনও কারণ নেই। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। এই মুহূর্তে দীপক শীলের মুক্তি চাই।’
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে সুনামগঞ্জে নারী বাউল শিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা। সংস্কৃতিকর্মী, বাউল গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে সন্ত্রাসীদের হামলা ও আগ্রাসনের প্রতিবাদে শিল্পী-জনতার প্রতিবাদী মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল। ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’ নামে একটি প্লাটফর্ম এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
বিকাল থেকেই সেখানে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। মানববন্ধন শুরুর আগে অভিনেত্রী সুমনা সোমা, নাট্যকর্মী এহসানুল আজিজ বাবু, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল, শ্রমিকনেতা মুর্শিকূল ইসলাম শিমুলসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা আসেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীপক শীলকে পুলিশ ভ্যানে করে আটক করে নিয়ে যায়।
অভিনেত্রী সুমনা সোমা বলেন, ‘দেশজুড়ে বাউলদের ওপর হামলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। পুলিশের একজন সদস্য বলেছেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া যাবে না। আমরা প্রতিবাদ করেছি। পরে পুলিশ দীপককে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জয় বাংলা স্লোগান বাঙালির অস্তিত্বের, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অর্জন। এই স্লোগান আমরা দেবোই। কেউ থামাতে পারবে না।’
ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপক নামের একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।