রাজধানীতে আই থ্রি (ইনোভেট, ইমপ্লিমেন্ট, ইমপ্যাক্ট) গ্লোবাল লার্নিংয়ের আয়োজন করেছে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন। এতে মালয়েশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ– এই চারটি দেশের আর্থিক সহনশীলতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে অর্জিত বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতাগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়। বুধবার (১৭ মে) অর্গানাইজেশন মাইক্রোসেভ কনসাল্টিং (এমএসসি) ও ইউএনসিডিএফ’র সহযোগিতায় এ আয়োজন করে মেটলাইফ ফাউন্ডেশন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভাবনীমূলক পণ্যের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি থেকে আর্থিক সক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সেবাদাতা, দাতাগোষ্ঠী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনাকে ত্বরান্বিত করা।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, আর্থিক বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও চিন্তাবিদরা এ খাত সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন তার মধ্যে রয়েছে– সচেতনতা বৃদ্ধিতে এবং আর্থিক সক্ষমতার উন্নয়নে আই থ্রির ভূমিকা; উদ্ভাবন, বিকাশ এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আর্থিক সহনশীলতা তৈরির প্রচেষ্টায় আর্থিক ইকোসিস্টেম থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা; ডিজিটাল ক্রেডিট, বিমা, রূপান্তর, সুরক্ষা ও গোপনীয়তার মতো আর্থিক খাতের যে বিষয়গুলো সামনের দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, সেসবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং আরও মনোযোগী হওয়া।
মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে আসা অংশগ্রহণকারীসহ ৮০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এটুআই’র পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী, মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সেলিম আর এফ হোসেন, ডব্লিউই’র (উই) প্রেসিডেন্ট ও ই-ক্যাবের যুগ্ম সচিব নাসিমা আক্তার নিশা, ভিআইএফও’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ভিয়েত লিন, স্টার্টআপ ভিয়েতনাম ফাউন্ডেশনের ম্যান্ডি ন’গুয়েন।
অনুষ্ঠানে এমএসসি’র পার্টনার অনিল কে গুপ্তের সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক শাহ জিয়া-উল হক, শক্তি ফাউন্ডেশনের ইমরান আহমেদ, ওয়াইজ ভিয়েতনামের মিন ট্রাং ট্রান, পিওডি মালয়েশিয়ার নাদিয়া ইসমাদি ও এফএও বাংলাদেশের ইমানুন নবী খানসহ এ খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আর্থিক খাতে কী ধরনের উদ্ভাবন প্রয়োজন, বৈশ্বিক মহামারি থেকে আমাদের প্রাপ্ত শিক্ষা এবং কীভাবে আমরা একটা সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারি প্যানেল আলোচনায় সেসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘আমরা দেখেছি আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের তুলনায় সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে কীভাবে সংযোগ তৈরি করা যায়– আমরা তা ভাবতে শুরু করি। সেখান থেকেই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ধারণাটি এসেছে। আমরা অল্প দিনের মধ্যে এর সুফলও দেখতে পাচ্ছি।’
মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী আলা আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নের প্রজেক্টগুলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং সহনশীল কমিউনিটির অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। টেকসই ধারণাটি আমাদের ব্যবসায়িক কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছি।’