রয়েল ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধু এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চ’ আলোচনা সভা

রয়েল ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধু এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে ছিল এ আয়োজন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার প্রফেসর ড.সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ হলো বঙ্গবন্ধুর জীবনের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অথচ শ্রেষ্ঠ ভাষণ। মূলত এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিবিদ থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। মাত্র ১৮ মিনিটের ছোট্ট একটা ভাষণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু সমগ্র বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছিলেন স্বাধিকারের দৃঢ় প্রত্যয়ে। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের জাদু।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা। তিনি জানতেন, ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুর জনসভায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই ভাষণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তিনি সুকৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, যে কারণে পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে বিচার করার সুযোগ পেলো না।’

আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুই ধরনের মুক্তির কথা বলেছেন। একটি হলো সামগ্রিক মুক্তি, অন্যটি রাজনৈতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পারি, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল আংশিক এবং মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ছিল চিরন্তন। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে মুক্তির সংগ্রাম প্রথমে উল্লেখ করেছেন এবং পরে স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা বলেছেন।’

অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রফুল্ল চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বিনা বাক্যে সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধীনতার প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।’

রয়েল ইউনিভার্সিটির নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক ভাষণগুলোর প্রায় সব কটিই ছিল লিখিত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অলিখিত।’

আলোচনা সভা শেষে কবিতা আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।