স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কোর্স বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই পর্বের সহ-পরিকল্পনা কর্মশালায় কোর্সের রূপরেখা ও পাঠপরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্সটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।
ঢাকার পূর্বাচলের সিসিইউএলবিতে (কালব) ১৪ ও ১৫ আগস্ট ‘এজাইল: ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ফর ফিমেল স্টুডেন্টস ওয়ার্কশপ’-এর দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ১৭ ও ১৮ জুলাই প্রথম পর্বের কর্মশালা হয়।
প্রথম পর্বে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কোর্সের প্রয়োজনীয়তা, কাঠামো ও বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে সেই কাঠামো চূড়ান্ত করে কোর্স বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
রোকেয়া কালেকটিভ ও সিজেইএন বাংলাদেশ কর্মশালা দুটি আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট।
দ্বিতীয় পর্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুর রাজ্জাক সোহেল, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিক্রমাদিত্য এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আফতাব হোসাইন ও মেহেরাবুল হক অংশ নেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল অতিথি বক্তা হিসেবে একটি সেশন পরিচালনা করেন। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, নির্ভরযোগ্য উৎস খোঁজা, তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম ‘ন্যাভিগেটিং জেন্ডার, পাওয়ার, এথিকস অ্যান্ড সেফটি ইন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ফর ফিমেল স্টুডেন্টস’ শীর্ষক সেশন পরিচালনা করেন। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জেন্ডার ও ক্ষমতার সম্পর্ক, নৈতিকতার চ্যালেঞ্জ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় পর্বে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত কোর্সের চূড়ান্ত রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এতে কোর্সের উদ্দেশ্য, শিক্ষণফল, সেশন কাঠামো, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব প্রেক্ষাপটে কোর্সটি কীভাবে সাজানো হবে, সেটিও উপস্থাপনায় স্থান পায়।
প্রস্তাবগুলো নিয়ে প্যানেল সদস্য ও অংশগ্রহণকারীরা মতামত দেন। আলোচনায় কোর্স বাস্তবায়নের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বাজেট ও সময়সূচির বিষয় উঠে আসে। দীর্ঘ মেয়াদে কোর্সটি চালু রাখার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।
কর্মশালায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন চ্যানেল ওয়ানের ইনপুট অ্যান্ড প্ল্যানিং এডিটর পারভেজ রেজা।
‘রাইটিং অ্যান ইনভেস্টিগেটিভ স্টোরি: ফ্রম কনসেপচুয়ালাইজেশন টু পাবলিকেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক ওই সেশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ধারণা তৈরি থেকে প্রকাশনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ছিল গবেষণা, পটভূমি অনুসন্ধান, মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিং, সাক্ষাৎকার, প্রতিবেদন লেখা ও ডিজিটাল টুলের ব্যবহার। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এর প্রভাব কীভাবে পরিমাপ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত কোর্সের দুটি করে সেশনের পাঠপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এতে সেশনের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, কার্যক্রম ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কল্যাণ, মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও পাঠপরিকল্পনায় রাখা হয়।
পাঠপরিকল্পনা পর্যালোচনায় অতিথি প্যানেল সদস্য হিসেবে অংশ নেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার জেসমিন মলি।
জিম্বাবুয়ের সেন্টার ফর ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজির ড. লুলু ব্রেন্ডা হ্যারিস অনলাইনে একটি বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন। তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ধারণা তৈরি, স্টোরি পিচ প্রস্তুত ও মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী প্রকল্পে মেন্টরিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
কর্মশালায় ফ্যাসিলিটেটর ছিলেন সিজেইএন বাংলাদেশের অধ্যাপক জুড উইলিয়াম জেনিলো এবং রোকেয়া কালেকটিভের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর সাংবাদিক জেসমিন পাপড়ি।
সমাপনী সেশনে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপ, সম্ভাব্য বাজেট ও সময়সূচি উপস্থাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে দুই পর্বের সহ-পরিকল্পনা প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। উদ্যোগটি এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাবে।
নারী শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শিক্ষা জোরদার এবং এ ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
এজাইল ২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। এর কনসোর্টিয়ামে রয়েছে ইন্টারনিউজ ইউরোপ, ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট, সিএফআই ডেভেলপমঁ মিডিয়া, থমসন মিডিয়া ও আর্টিকেল ১৯। সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করা এজাইলের ওয়ার্কস্ট্রিম ৫-এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিউট।