৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৬ আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৭

দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান সই করা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনও শিক্ষক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন না। একজন শিক্ষক কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, অতীতে কী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন কিংবা কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য রয়েছে—এসব কোনোভাবেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি হতে পারে না।

সংগঠনটি বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত বিরোধকে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, যুক্তিবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। শিক্ষকদের ভয় দেখানো, অপমান করা, চাকরির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শাস্তির মুখোমুখি করা হলে এর প্রভাব শুধু শিক্ষকসমাজের ওপরই পড়বে না; শিক্ষার্থী, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এবং দেশের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—

১. ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মতাদর্শগত বিবেচনা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত সব তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

২. মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত বা তথাকথিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি বাতিল করতে হবে।

৩. ভিত্তিহীন সংবাদ বা অসমর্থিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও শিক্ষককে হয়রানি, অপমান কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিরত থাকতে হবে।

৪. কোনও শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ, অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত মতপার্থক্যকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি করা যাবে না।

৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষকতার মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি, হয়রানি, প্রশাসনিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ বন্ধ করে প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা নিতে হবে।

/এসও/এম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গাজার শিশুদের জন্য এক লাখ পাউন্ডের বেশি সংগ্রহ হামজার
গাজার শিশুদের জন্য এক লাখ পাউন্ডের বেশি সংগ্রহ হামজার
মর্গে মরদেহের সঙ্গে ‘বিকৃত যৌনাচার’ নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
মর্গে মরদেহের সঙ্গে ‘বিকৃত যৌনাচার’ নিয়ে প্রতিবেদন, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনের আগের দিন ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনের আগের দিন ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ভোটের আগেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তাপ
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ভোটের আগেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তাপ
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
আমজনতার তারেককে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
আমজনতার তারেককে সফরসঙ্গী করায় সমালোচনা নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন সেই এমপি, আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যা বললেন
পরিবার নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন সেই এমপি, আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যা বললেন
ইসরায়েলের নির্বাচন: কোন দল কত আসন পেলো
ইসরায়েলের নির্বাচন: কোন দল কত আসন পেলো