বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, স্যানিটেশন, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে দুই দিনব্যাপী ‘এডপ্ট এ কমিউনিটি’ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে মিস বাংলাদেশ ইন-ট্রেনিং (এমবিআইটি)-এর এমবিআইটি ভলান্টিয়ার্স। রিজুভা ওয়েলনেস ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ২৭ ও ২৮ আগস্ট এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
২৭ আগস্ট চৌফলদন্ডী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্যানিটেশন ও প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক উপস্থাপনা, সঠিকভাবে হাত ধোয়া ও দাঁত ব্রাশ করার প্রদর্শনী, স্যানিটেশন কিট ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের ব্যাগ বিতরণ, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরদিন দক্ষিণ বিল জামে মসজিদ, খামারপাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ড্রেন ও খালের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। নিয়মিত খাল পরিষ্কার রাখা ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারের বিষয়েও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এবং পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এমবিআইটি ভলান্টিয়ার্সের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জুনাত হোসাইন মৃধা বলেন, ‘মিরপুর কালশীর পর এটি আমাদের দ্বিতীয় এডপ্টেড কমিউনিটি। বন্যার ঝুঁকি এবং বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য সব ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করছি।’
এমবিআইটির প্রতিষ্ঠাতা ড. নিলুফার ইসলাম বলেন, ‘এই কমিউনিটির জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরির সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কারণ এখানকার মানুষের বর্জ্য ফেলার জন্য উপযুক্ত কোনো জায়গা নেই।’
তিনি সম্ভাব্য দাতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার এবং জৈব বর্জ্যের জন্য সহজ কম্পোস্টিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে চৌফলদন্ডী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য গোলজার বেগমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন।
আয়োজকরা জানান, ‘এডপ্ট এ কমিউনিটি’ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি স্যানিটেশন শিক্ষা, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস, ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও বন্যা-সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।