জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই শত কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ শহরের মরা মধুমতি নদীর চরে ১০ একর জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। তবে শুরুতেই ক্ষমতার পালাবদলে থমকে যায় সব কার্যক্রম। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফের নতুন করে নির্মিত হয় এই স্টেডিয়াম। নির্মাণের পর ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু বর্তমানে অব্যবস্থাপনা আর জনবলের অভাবে উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও ধুঁকতে বসেছে এই স্টেডিয়াম।
এমনকি চার বছরের মধ্যে স্টেডিয়ামের দুটি সাইটস্ক্রিন আর লিফটের একটি ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। ৮৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের বেশির ভাগই এখন অকেজো। এছাড়া ঘাস কাটার আধুনিক মেশিনও এখানে নেই। দর্শকদের বসার চেয়ারগুলোও আগের মতো অবস্থায় নেই। সেই সঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্লাড লাইটের বৈদ্যুতিক বিল।
এমন দশায় হতাশা ঝরেছে স্থানীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় রাজ সাহার কণ্ঠে। তিনি জানান, ‘একটি আন্তর্জাতিক মানের মাঠ হলেও আউট ফিল্ড অত্যন্ত খারাপ। খেলার উপযোগী পিচও নেই। বিশেষ করে বড় ধরনের কোনও লিগও চালু করা যায়নি। যে কারণে খোলোয়াড়রা হতাশ হয়ে মাঠে আসতে চাইছেন না।’
ক্রিকেট কোচ মাহবুব আহম্মেদ কুটিও একই কথা জানান, ‘মাঠটির বেহাল অবস্থা থাকায় খেলোয়াড়রা ঠিকভাবে অনুশীলন করতে পারছেন না। আর লিগ না হওয়ায় নিজের যোগ্যতা প্রমাণেও ব্যর্থ হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। যে কারণে প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকার পরেও আমরা তাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না।’
জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটির সদস্য ফকরুল হাসান ভিকু জানান অব্যবস্থাপনার কথা। নিজেরা পরিচালনা করতে না পারায় এভাবেই হতাশা ব্যক্ত করেন, ‘জেলা ক্রীড়া ক্ষেত্রের জন্য স্টেডিয়ামটি তৈরি করা হলেও জেলা ক্রীড়া সংস্থা এর পরিচালনার করতে পারছে না। পরিচালনার যে খরচ সেটাও ক্রীড়াসংস্থা বহন করতে পারছে না। সামান্য কিছু বাৎসরিক অনুদান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পাওয়া যায়। যা দিয়ে কর্মচারীদেরই বেতন দেওয়া যায় না।’
গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এম বি সাইফ (বি মোল্যা) জানান, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যদি মাঠটি সব সময় পর্যক্ষেণ না করে তাহলে সেটা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। একটি রোলার মেশিন দিয়েছিল, সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠটিতে প্রায় ২৫ কোটি টাকার ইলেক্ট্রনিক মালামাল রয়েছে যা ব্যবহার না করার ফলে নষ্ট হতে বসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ উদ্যোগ নিয়েছে যাতে মাঠটি আবার খেলার উপযোগী করা যায়। এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সহযোগিতাও শুরু করছে। আমরা যাতে মাঠটি সচল রাখতে পারি সেজন্য ক্রীড়া উপ-মন্ত্রী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহযোগিতা কামনা করছি।’
/এফআইআর/