রংপুরকে জেতালেন মাশরাফি

জয়ের নায়ক মাশরাফিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন রংপুরের কোচ টম মুডি। ছবি-বিসিবিশেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন ছিল রংপুর রাইডার্সের। ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাহিদুল ইসলাম।  উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচে মাশরাফির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স।  

১৭৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে গেইলের উইকেট হারায় রংপুর। ৫ রানে সোহেল তানভীরের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। পরে অবশ্য জিয়াউর রহমান ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জুটিতে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে মাশরাফির দল।  ১৮ বলে ঝড়ো স্টাইলে ৩৬ রান করেন জিয়া।  জিয়াউরকে স্টাম্পড করলে দলীয় ৬৬ রানে ভাঙে গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি। ‍এরপর ১৮ রানে ব্যাট করতে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনকে  বিদায় করেন ব্রেসনান।  

রংপুরের অবশ্য এরপরেও প্রতিরোধ দেওয়ার মতো ব্যাটসম্যান ছিল।  ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৩৮ বলে ৪৩ রানে ফিরলে রংপুরের রানের রাশ কিছুটা সময়ের জন্যে টেনে ধরেছিল সিলেট।  সেই অবস্থা থেকে দলকে ধীরে ধীরে টেনে ‍তুলেন রবি বোপারা।  বোপারা ঝড়ো গতিতে তোলা ৩৩ রানে ফিরলে শেষ দিকে একাই দুর্দান্ত কিছু শট খেলে রংপুরকে ১৯.৪ ওভারে জয় পাইয়ে দেন মাশরাফি।  মাশরাফি অপরাজিত ছিলেন ১৭ রানে।  তার ১০ বলের ইনিংসে ছিল ২টি ছয়। এছাড়া ৭ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন নাহিদুল।  ম্যাচসেরা হন নাজমুল ইসলাম।     

আগের তিন ম্যাচে টস জিতে বোলিং নিয়েছিল রংপুর রাইডার্স।  মঙ্গলবারও সেই সিদ্ধান্তের ব্যতিক্রম করেননি অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে আগের মতোই বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরেও সিলেটকে আটকাতে পারেনি তার দল।  শুরুটা স্লথ থাকলেও বাবার আজম ও সাব্বির রহমানের দৃঢ়তায় ৫ উইকেটে ১৭৩ রানের বড় পুঁজি পায় শুরুতে।

চট্টগ্রামে শুরুতে তেমন আগ্রাসন অবশ্য চালাতে পারেনি সিলেট। ৫৩ রানে ফিরে যান নুরুল হাসান, নাসির হোসেন ও আন্দ্রে ফ্লেচার।  তিনজনের বিদায়ে রানের চাকা সচল করতে ভূমিকা রাখে বাবর আজম ও সাব্বির রহমান জুটি। বাবরকে ব্যক্তিগত ৫৪ রানে বিদায় দিলে ভাঙে বিপজ্জনক এই ‍জুটি। ৩৭ বলে ৪টি চার ও একটি ছয় মারা বাবর রান আউটের বলি হয়ে ফেরেন সাজঘরে। এরপর সাব্বিরও আর ইনিংস লম্বা করতে পারেননি।  ১৯তম ওভারে ৪৪ রানে খেলতে থাকা সাব্বিরকে বোল্ড করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।   

এই দুজন ফিরলে হুইটলি ও ব্রেসনান মিলে শেষ দিকে দ্রুত গতিতে রান তুললে ৫ উইকেটে ১৭৩ রানে থামে সিলেট। ১১ বলে ১৭ রানে ব্যাট করছিলেন হুইটলি ও ৫ বলে তুলনামূলক ঝড়ো গতিতে ব্যাট চালিয়ে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রেসনান। ব্রেসনানের ইনিংসে ছিল ১টি ছয় ও ২টি চার।  হুইটলির ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ১টি ছয়।

রংপুরের হয়ে ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে সফল ছিলেন নাজমুল ইসলাম। একটি নেন মাশরাফি। আর লঙ্কান টো ক্রাশার লাসিথ মালিঙ্গা ছিল আরও ব্যয়বহুল। ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়েছেন তিনি। ওয়াইডও ছিল ৪টি!

আজকের ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন এনেছে রংপুর। বাদ পড়েছেন শাহরিয়ার নাফীস, থিসারা পেরেরা ও সোহাগ গাজী। ফিরেছেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, জিয়াউর রহমান ও নাজমুল ইসলাম।

সিলেটের হয়ে ফিরেছেন পাকিস্তান থেকে যোগ দেওয়া সোহেল তানভীর, রস হুইটলি ও নাবিল সামাদ। বাদ পড়েছেন দানুশকা গুনাথিলাকা, গোলাম মোবাশ্বের খান ও তাইজুল ইসলাম।