যুব বিশ্বকাপে না খেললেও শ্রীলঙ্কা জাতীয় দলের হয়ে অনেক কীর্তি কুমার সাঙ্গাকারার। ‘ছোটদের’ বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেছিলেন, ‘ওই সময় আমি হয়তো তেমন ভালো খেলতাম না।’ শ্রীলঙ্কার ‘গ্রেট’ ব্যাটসম্যান সাঙ্গাকারার মতো ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
যদিও নাঈম শেখের ক্রিকেটার হয়ে ওঠা খুব বেশি দিনের নয়। তিন বছর আগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে ফরিদপুর জুনিয়র ক্রিকেট কোচিং ক্লাবে ভর্তি হন। ফরিদপুর জেলার হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পর এক বছর আগে ঢাকা বিভাগের হয়ে খেলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন নাঈম। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালে চ্যালেঞ্জ কাপে অংশ নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যানও হন তিনি। এরপর সরাসরি সুযোগ আসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। সেখানে ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে নিউজিল্যান্ডে গেছেন বিশ্বকাপ খেলতে।
নাঈম শেখ পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি এলাকার অলিতে-গলিতে ক্রিকেট খেলার কারণেই! বাবা-মা অবশ্য ক্রিকেটের প্রেম দেখে পরে আর কিছুই বলেননি। ছেলের পছন্দের কাছেই নতি স্বীকার করেছেন। পড়াশুনাটা না হলেও ক্রিকেটটা ঠিকই মাথায় ঢুকিয়ে নিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘বাংলাদেশের সাঙ্গাকারা’ হয়ে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের তালিকায় থাকার স্বপ্ন নাঈমের চোখে-মুখে।
একান্ত সাক্ষাৎকারে নাঈম শেখ
বাংলা ট্রিবিউন: অনেক দিন ধরেই অনুশীলনের মধ্যে আছেন। দলের প্রস্তুতি কেমন?
নাঈম: আমাদের প্রস্তুতিটা বেশ ভালো। আমরা দুই সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ড এসেছি। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সব রকম প্রচেষ্টাই করছি। প্রস্তুতি সবারই ভালো। ব্যাটসম্যানরা ভালো অবস্থায় আছে, বোলাররা ভালো অবস্থানে আছে। সবমিলিয়ে আমাদের লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারব। কন্ডিশনটা আমাদের মতো নয়। ওখানে বল খুব দ্রুত আসে। কোচরা ব্যাটসম্যানদের ব্যাকফুটে অনেক অনুশীলন করিয়েছেন। আমি নিজেও ব্যাকফুটে কিছুটা দুর্বল ছিলাম। এখন আমাদের এই সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। এছাড়া এখানে এসেও কয়েকদিন অনুশীলন করেছি। ম্যাচের আগে সমস্যাগুলো সব কাটিয়ে উঠবো।
বাংলা ট্রিবিউন: নিজের প্রস্তুতি কেমন দেখছেন?
নাঈম: আমার অনুশীলন খুব ভালো হয়েছে। যদিও এশিয়া কাপে ইনিংসগুলো বড় করতে পারিনি। বড় ইনিংস খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু আউট হয়ে গেছি। তবে সার্বিকভাবে খারাপ বলবো না। আমি আত্মবিশ্বাসী বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে। আশা করি অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজম্যান্টের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
নাঈম: দলকে শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। টপ অর্ডারে রানের চাকা সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ, সেই কাজটিই আমি করে যেতে চাই। এই মুহূর্তে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুরুটা ভালো করতে পারবো বলে আত্মবিশ্বাসী। শীর্ষে না পারলেও সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের তালিকাতে নিজেকে দেখতে চাই। বিশ্বকাপে ভালো খেলে জাতীয় দলে ঢোকার পথটা তৈরি করে রাখতে চাই। স্বপ্ন দেখি বড় ক্রিকেটার হওয়ার।
বাংলা ট্রিবিউন: টুর্নামেন্টে আপনাদের লক্ষ্য কী?
নাঈম: এবার যেহেতু বাইরে খেলা। আমরা যদি মাঠে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ফাইনালে যাওয়া কঠিন কিছু না। আমরা অবশ্য একটি একটি ম্যাচ করে চিন্তা করছি। প্রথম ম্যাচটি জয় দিয়ে শুরু করতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: সাইফ হাসান-পিনাক আপনাদের কিভাবে সাহায্য করছে?
নাঈম: আমাদের দলে দুইজন সিনিয়র ক্রিকেটার আছে। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক সাপোর্ট পাচ্ছি। তাদের অভিজ্ঞতাগুলো শুনে শুনে পরিকল্পনা করছি অনেক কিছুর। বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার কারণে নানা পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত। সেগুলোই আমরা তাদের কাছ থেকে ধারণা নিয়েছি।
বাংলা ট্রিবিউন: গত সপ্তাহে মাশরাফি আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আপনি তার কাছ থেকে কী অনুপ্রেরণা পেলেন?
নাঈম শেখ: মাশরাফি ভাইয়ের সব কথাই অসাধারণ। আসলে তিনি মানুষটাই অন্যরকম। উনি আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে মাঠে লড়াই করতে বলেছেন।
বাংলা ট্রিবিউন: সাঙ্গাকারার মতো হতে চান কেন?
নাঈম শেখ: ছোটবেলা থেকেই সাঙ্গাকারাকে ভালো লাগে। তার ব্যাটিং স্টাইল আমার খুব পছন্দের। সে বিশ্বের সেরা একজন ব্যাটসম্যান। আমি তার মতোই হতে চাই। শ্রীলঙ্কায় তিনি যেমন নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে আমিও তার মতো নির্ভরতার প্রতীক হতে চাই।
নাম: মোহাম্মদ নাঈম শেখ
ডাক নাম: নাঈম
বাবা: আব্দুল আজিজ শেখ
মা: আলেয়া বেগম
জন্ম: ২২ আগস্ট ১৯৯৯
জন্মস্থান: ফরিদপুর
উচ্চতা: ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি
প্রথম ক্লাব: ফরিদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা
বর্তমান ক্লাব: কলাবাগান ক্রীড়া চক্র
ব্যাটিং স্টাইল: বাঁহাতি ওপেনার
প্রিয় শট: কাভার ড্রাইভ
প্রিয় মানুষ: মা
প্রিয় ক্রিকেটার: কুমার সাঙ্গাকারা
প্রিয় ফুটবলার: নেইমার
প্রিয় ফুটবল দল: ব্রাজিল
প্রিয় বন্ধু: মা
ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত: ২০১৬ সালে চ্যালেঞ্জ সিরিজে ১৪৭ রানের ইনিংস
ছবি-নাসিরুল ইসলাম