এমসিসির সভায় সুযোগ পেলে ক্রিকেটের নানা অসুবিধা নিয়ে কথা বলবেন সাকিব। দেশ ছাড়ার আগে এমন কথাই বলে গিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এমসিসির বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সভায় কথা রেখেছেন তিনি। মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত সভায় ক্রিকেটারদের বেতন বৈষম্য কমাতে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন সাকিব আল হাসান ও ইংল্যান্ড উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টো।
তারা সভায় সবার কাছে ক্রিকেট বিশ্বে ক্রিকেটারদের বেতন বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এমনকি আশঙ্কার কথাও বলেন যে কম মজুরি দুর্নীতিতে প্রলোভন দেখাবে ক্রিকেটারদের। যেমন স্পট ফিক্সিং।
কমিটিতে সাকিব বলেন, টি-টোয়েন্টিতে বেশি টাকা থাকায় অনেক তরুণ বাংলাদেশি ক্রিকেটারই টেস্ট ক্রিকেট অনুসরণ করে না। সভায় আরও ছিলেন রিকি পন্টিং, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও কুমার সাঙ্গাকারা। সাকিবের প্রসঙ্গ নিয়ে পন্টিং জানান, ‘সাকিব আমাদের কাছে বাংলাদেশের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছে। কিছু নাটকীয় বিষয় যা তারা বেশ কয়েক বছর ধরে দেখে এসেছে, সেসব নিয়ে কথা বলেছে। তবে সাকিব টাকা বণ্টনের ক্ষেত্রে আইসিসির হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। সে বলেছে অনেক টাকা সঠিক জায়গাতেই হয়তো যাচ্ছে। তবে খেলোয়াড়দের কাছে যেভাবে যাওয়ার কথা, সেভাবে হয়তো যাচ্ছে না।’
সাকিবদের কথায় টনক নড়েছে এই কমিটির। সেই বিষয়টি স্বীকার করে পন্টিং আরও জানান, ‘কমিটি এ বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। মজুরি নির্ধারণে একটা অবকাঠামো প্রয়োজন। যাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেসব বৈষম্য আছে সেগুলো কমে যায়। ’
বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) তাদের বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সদস্য হিসেবে সাকিবকে নিয়োগ দেয় অক্টোবরে। ১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যদের তালিকায় অনেক কিংবদন্তি আছেন। বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের মধ্যে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা, স্টিভ ওয়াহ, সৌরভ গাঙ্গুলী ও রিকি পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তিরা। ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রচলিত ইস্যু নিয়ে বার্ষিক সভা আয়োজন করে এমসিসি। আর আইসিসি ও এর সদস্যদের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এই বিশ্ব ক্রিকেট কমিটি।